পাইকারি পণ্য
চালের পাইকারি বাজার
ঢাকায় চালের পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত জায়গা পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলীর আড়ত (আড়ত মানে পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর) আর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট; চট্টগ্রামে চালের আড়ত পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ে। ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়া ও নওগাঁ চালের পরিচিত মোকাম, মানে পাইকারি বিক্রির জায়গা। এই পাতায় দাম নেই; আছে কোথায় কিনবেন, চালের ধরন আর বস্তায় কী মিলিয়ে নেবেন।
- ঢাকায় চালের আড়ত
- বাবুবাজার ও বাদামতলী (পুরান ঢাকা), মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট
- চট্টগ্রামে চালের আড়ত
- পাহাড়তলী ও চাক্তাই
- চালের মোকাম
- কুষ্টিয়া (খাজানগর) ও নওগাঁ
- বস্তার লেবেল (১৪ এপ্রিল ২০২৪ থেকে)
- জাত, মিল গেটের দাম, উৎপাদনের তারিখ, মিলের নাম, জেলা ও উপজেলা ছাপা থাকার নির্দেশনা
- ধান কাটার সময়
- সাধারণত বোরো এপ্রিল থেকে জুন, আমন নভেম্বর-ডিসেম্বর

ছবিটি পণ্যের ধরন বোঝাতে দেওয়া। Photo: “Rice Grains at Bakin Dogo Market Kaduna North” by JoabJacob, CC BY-SA 4.0.
ঢাকায় চালের পাইকারি বাজার কোথায়
বাবুবাজার ও বাদামতলী: পুরান ঢাকার এই দুই এলাকা চালের আড়তের জন্য পরিচিত। চালের এই পাইকারি বাজারের শুরু ১৯২৫ সালে, বুড়িগঙ্গার তীরে বাদামতলীতে; পরে তা বাবুবাজার এলাকায় ছড়ায়। বাবুবাজারে যেতে নয়াবাজার থেকে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচের সড়ক ধরে এগোতে হয়, সড়কের পাশে সারি সারি চালের আড়ত (২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদনের বর্ণনা)। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের প্রতিবেদনেও এই দুই জায়গার নাম এসেছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট: এখানে চাল, ডাল ও চিনির পাইকারি দোকান আছে, আর ২০২৬ সালের জানুয়ারির চালের দর যাচাইয়ের প্রতিবেদনেও এই মার্কেটের নাম এসেছে। রায়েরবাজারের সাদেক খান কৃষি মার্কেট আলাদা বাজার, গুলিয়ে ফেলবেন না।
কারওয়ান বাজার: পান্থপথের পাশের এই বাজারেও সাধারণত চালের আড়ত আছে (২০২৪ ও ২০২৬ সালের প্রতিবেদন)।
চট্টগ্রাম আর মোকাম: কুষ্টিয়া ও নওগাঁ
চট্টগ্রামে চালের আড়ত নগরের পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকায়; চাক্তাইয়ে কয়েকটি চালকলও আছে, আর এই দুই জায়গা থেকে চট্টগ্রামের অন্য বাজারে চাল যায় (২০২৪ সালের খবর)। ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আছে চট্টগ্রামের পাতায়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কুষ্টিয়া ও নওগাঁ দেশের চালের পরিচিত মোকাম। ২০২৪ সালের খবরে কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের চালকল আর নওগাঁ জেলা শহরের আলুপট্টি এলাকার চালের আড়তের কথা এসেছে।
চালের আড়ত কবে বন্ধ, কখন খোলা
রাজধানীর এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকায় বাবুবাজার ও নয়াবাজার আছে শুক্রবারের দলে (২০২৬ সালের তালিকা; ২০২৪ সালের তালিকায় শনিবার অর্ধেক দিনও), আর মোহাম্মদপুরের টাউন হল মার্কেট ও কৃষি মার্কেট বৃহস্পতিবারের দলে (২০২৪ ও ২০২৬ সালের তালিকা)। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান এই নিয়মের বাইরে, আর চালের আড়ত সেই ছাড় পায় কি না, কোনো সূত্রে স্পষ্ট নয়। বাদামতলী আর চট্টগ্রামের আড়তের বন্ধের দিন কোনো সূত্রে পাইনি।
খোলার সময় নিয়েও একই প্রশ্ন: ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সরকারি নিয়মে দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়, তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও অত্যাবশ্যক সেবা এর বাইরে; চালের পাইকারি আড়ত এই ছাড় পায় কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
চালের ধরন: সেদ্ধ, আতপ, সরু, মোটা আর ‘মিনিকেট’
সেদ্ধ চাল মানে সেদ্ধ করা ধান থেকে ভাঙা চাল, আর আতপ চাল রোদে শুকানো, সেদ্ধ না করা ধান থেকে ভাঙা চাল। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাইকারি বাজারের প্রতিবেদনে নাম ধরে যেসব চাল এসেছে: ব্রি-২৮, পাইজাম, স্বর্ণা (গুটি স্বর্ণা ও স্বর্ণা-৫), হাইব্রিড, মোটা চাল, নাজিরশাইল, জিরাশাইল আর ‘মিনিকেট’ নামে বিক্রি হওয়া সরু চাল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আমদানি করা নাজিরশাইলও ঢাকার খুচরা বাজারে ছিল।
‘মিনিকেট’ কোনো ধানের জাত নয়, বাজারের নাম: ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথাকথিত মিনিকেট মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯-এর মতো জাতের ধান থেকে তৈরি, বেশি পলিশ করা চাল। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মিনিকেট ও জিরাশাইল নামে চাল বিক্রি বন্ধ করতে বলেছিল, কিন্তু একটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২৯ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই নির্দেশনা বাতিল করে বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দেখতে বলে। এরপর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত নতুন সিদ্ধান্তের খবর পাইনি; নামের চেয়ে বস্তায় লেখা জাত দেখে কিনুন।
কেনার মাপ, মৌসুম আর দর কেন ওঠানামা করে
চাল সাধারণত বস্তায় বিক্রি হয়: ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের পাইকারি দরে ৫০ কেজির আর ঢাকার কারওয়ান বাজারে ২৫ কেজির বস্তার কথা আছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বস্তা ও প্যাকেটে ৫০, ২৫, ১০, ৫ বা ১ কেজি ওজন লেখার কথা আছে।
নতুন চাল আসে ফসল ওঠার সঙ্গে: বোরো ধান সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনে কাটা হয়, আমন নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতারা বলেছেন, বছরের ওই সময়ে নতুন আউশ ও আমন চাল বাজারে আসে।
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দর সাধারণত জাত ও মানভেদে আলাদা হয়, আর মৌসুম ও সরকারি সিদ্ধান্তে ওঠানামা করে: ২০২৬ সালের জুনে বোরো কাটার মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই দেশজুড়ে চালের দাম বাড়তে শুরু করার খবর এসেছিল, আর সেপ্টেম্বরে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সরকারি সিদ্ধান্তের পর চিনিগুঁড়া ও আতপ চালের দাম বেড়েছে বলে খবর দিয়েছে একটি টিভি চ্যানেল। তাই পুরোনো দরের তালিকা দেখে বাজেট করবেন না।
বস্তার লেবেল, আইন আর দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চালের বস্তায় ধানের জাত, মিল গেটের দাম, উৎপাদনের তারিখ, মিলের নাম আর জেলা ও উপজেলা ছাপা থাকার কথা; হাতে লেখা চলবে না। নির্দেশনাটি মিলের জন্য, তবে আড়তেও এই বস্তাই বিক্রি হয়; ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে ঢাকার আড়তে নতুন বস্তায় মিলের নাম ও জাত থাকলেও দাম প্রায় লেখা ছিল না। এখনকার অবস্থা নিয়ে নতুন সূত্র পাইনি।
খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ২০২৩ সালের আইনে (গেজেট ১১ জুলাই ২০২৩) অনুমোদিত জাতের শস্য থেকে তৈরি খাদ্যকে ভিন্ন বা কাল্পনিক নামে বিক্রি, আর খাদ্যের স্বাভাবিক উপাদান সরিয়ে বিপণনকে অপরাধ বলা হয়েছে; তবে ২০২৪ সালের জুনের খবর অনুযায়ী পলিশের কোনো সরকারি সীমা তখনো ঠিক হয়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারির এক খবর অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের এক চালকল ব্রি-২৮ চালের বস্তায় মিনিকেট লিখে বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা গুনেছে। তাই দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:
- বস্তায় জাত, উৎপাদনের তারিখ, মিলের নাম ও ঠিকানা ছাপা আছে কি না, আর ভেতরের চাল আগে নেওয়া নমুনার সঙ্গে মেলে কি না।
- সাধারণ যাচাই হিসেবে চাল শুকনো কি না, আর ভাঙা দানা, কাঁকর বা অন্য চাল মেশানো কি না।
- কয়েকটি বস্তা সামনে মেপে দেখুন, লেখা ওজন মেলে কি না।
- দর, জাত, বস্তার সংখ্যা ও তারিখ লেখা মেমো নিন।
- অন্য জেলায় পাঠাতে পরিবহন, খরচ আর পথে বস্তা ভিজলে দায় কার, আগেই ঠিক করুন।
আড়তে না গিয়েও চাল পাইকারি কিনুন
কোন চাল (জাত, সেদ্ধ না আতপ, সরু না মোটা), কোন মাপের বস্তায় কত বস্তা, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে, এটুকু Roptan-কে জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, বস্তার লেবেল আর চাল মিলিয়ে দেখে, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আড়তে আড়তে ঘোরা, দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
চালের পাইকারি বাজার কোথায়?
ঢাকায় পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলীর আড়ত আর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট; কারওয়ান বাজারেও সাধারণত চালের আড়ত আছে। চট্টগ্রামে পাহাড়তলী ও চাক্তাই, আর কুষ্টিয়া ও নওগাঁর মোকাম।
বাবুবাজারের চালের আড়ত কবে বন্ধ থাকে?
রাজধানীর বন্ধের তালিকায় বাবুবাজার আছে শুক্রবারের দলে (২০২৬ সালের তালিকা), তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান এই নিয়মের বাইরে, আর চালের আড়ত সেই ছাড় পায় কি না, স্পষ্ট নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
মিনিকেট চাল কি কোনো জাত?
না, মিনিকেট বাজারের নাম; ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯-এর মতো জাতের বেশি পলিশ করা চাল। বস্তায় আসল জাতের নাম দেখে কিনুন।
চালের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দর জাত, মান আর মৌসুমে বদলায়; জাত, পরিমাণ, বস্তার মাপ আর জেলা জানালে দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
নতুন চাল কখন আসে?
বোরো ধান সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনে আর আমন নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাটা হয়; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিক্রেতারা বলেছেন, বছরের ওই সময়ে নতুন আউশ ও আমন চাল বাজারে আসে।