Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

রুপার পাইকারি বাজার: তাঁতীবাজার ও রুপার গহনা

রুপার গয়নার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত জায়গা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার। ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরু গলির এই এলাকায় সোনা ও রুপা দুই ধরনের গয়নার ব্যবসা আছে, তবে বাজারটিকে চালু রেখেছে মূলত রুপা। কেনার আগে রুপার মানের ধরন, ভরির দর আর মজুরি আলাদা করে বুঝে নিন।

বাজার
তাঁতীবাজার, পুরান ঢাকা
যা পাওয়া যায়
সোনা ও রুপার গয়না; মূল ব্যবসা রুপার
রুপার মানের ধরন (জুয়েলার্স সমিতির দর তালিকায়)
২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতি
শাঁখারীবাজার
শাঁখা, সিঁদুর, তামা-কাঁসার তৈজসপত্র ও পূজার সামগ্রীর জন্য পরিচিত; রুপার পাইকারির জন্য তাঁতীবাজার
সাপ্তাহিক বন্ধ
নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি; যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে নিশ্চিত হোন

রুপার পাইকারি বাজার কোথায়: তাঁতীবাজার

তাঁতীবাজার পুরান ঢাকার ঘন গলির একটি এলাকা। এখানে সোনা ও রুপার গয়নার কেনাবেচা হয়, তবে দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাজারটির মূল ভরসা রুপা। আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে সাধারণত পাইকারিতেই কেনেন, আর খুচরা ক্রেতাদের বড় অংশ মধ্যবিত্ত।

রুপার বাজার খুঁজতে গিয়ে অনেকে শাঁখারীবাজারের নামও পান। প্রথম আলোর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী শাঁখারীবাজার পরিচিত শাঁখা, সিঁদুর, তামা-কাঁসার তৈজসপত্র আর পূজার সামগ্রীর জন্য; রুপার গয়নার পাইকারি কেনাবেচার জায়গা হিসেবে সূত্রে নাম এসেছে তাঁতীবাজারের।

গলির ভেতরে কোন দোকানে কী মেলে, তার হালনাগাদ তালিকা আমরা পাইনি। প্রথমবার গেলে কয়েকটি দোকানে নকশা, মান ও মজুরি তুলনা করে তারপর অর্ডার দিন।

তাঁতীবাজারে কী পাওয়া যায়, গয়না তৈরি হয় কীভাবে

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে তাঁতীবাজারের নিজস্ব নকশা হিসেবে কমল নূপুরের কথা এসেছে: পদ্মফুলের আদলে পায়ের মল, শিশুদের মাপসহ কয়েক ধরনের। চেইন, চুড়ি বা নাকফুলের মতো অন্য গয়নার নির্ভরযোগ্য তালিকা আমরা পাইনি, তাই যা লাগবে তার ছবি বা নমুনা দেখিয়ে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন।

দোকানগুলো সামনে চোখে পড়ে, কিন্তু কারিগরদের কর্মশালা সাধারণত গলির ভেতরে। গয়না সাধারণত চার ধাপে তৈরি হয়: ধাতু গলিয়ে পাত বা তার বানানো, প্রাথমিক নকশা, ছাঁচ বা ডাই তৈরি, আর শেষে পালিশ ও মিনার কাজ। মিনা মানে গয়নার গায়ে রঙের প্রলেপ। নিজের নকশায় অর্ডার দিলে ছাঁচ বানাতে হবে কি না আর কতদিন লাগবে, তা আগে জেনে নিন।

রুপার মান: বাজুসের চার ধরন

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রুপার দর ঘোষণা করে চার ধরনে: ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতি। পাইকারি অর্ডারে কোন ধরনের রুপা চাইছেন, তা শুরুতেই বলুন, কারণ এক ধরনের দর দিয়ে আরেক ধরনের সঙ্গে তুলনা চলে না।

দর ঘন ঘন বদলায়। যেমন, বাজুস ২০২৬ সালের ১১ জুলাই থেকে সোনা ও রুপার নতুন দর কার্যকর করে, আর আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা দেখে ১৮ জুলাই আবার দর বদলায়। তাই দর নেওয়ার দিন কোন তারিখের দর ধরা হচ্ছে, তা জেনে নিন।

পাইকারি দাম কীসে ঠিক হয়: ভরি, মান ও মজুরি

রুপা সাধারণত ভরি হিসেবে বিক্রি হয়; ভরি হলো সোনা-রুপা মাপার দেশি ওজনের একক। ভরির দর ঠিক হয় মান অনুযায়ী: হলমার্ক করা রুপার দর সাধারণত সামান্য বেশি, আর খাদ যত বেশি, দর ধাপে ধাপে তত কম। খাদ মানে রুপার সঙ্গে মেশানো অন্য ধাতু।

এর ওপর যোগ হয় মজুরি, মানে গয়না বানানোর খরচ। ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী মজুরির নির্দিষ্ট হার নেই; নকশা কতটা জটিল, কত শ্রম লাগে আর দরকষাকষি কেমন হয়, তার ওপর নির্ভর করে। রুপার দর আর মজুরি আলাদা করে লিখে নিলে দুই দোকানের দর তুলনা করা সহজ হয়।

হলমার্ক: নিয়মটা আসলে কী

হলমার্ক হলো গয়নায় বসানো মানের চিহ্ন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত বাজুসের নির্দেশিকায় গয়নায় লেজারে হলমার্ক বসানো বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে; নির্দেশিকায় সোনা ও রুপার জন্য আলাদা নিয়ম আছে, তবে হলমার্কের বর্ণনায় সোনার মানের কথাই এসেছে, আর ২০২২ সালের জুনে সমিতিটি বলেছিল, হলমার্ক ছাড়া সোনার গয়না বিক্রি করা যায় না। এটি জুয়েলার্স সমিতির নিজস্ব নির্দেশিকা, সরকারি আইন নয়। রুপার গয়নায় হলমার্ক কতটা মানা হয়, তার কোনো সূত্র আমরা পাইনি।

প্রথম আলোর ২০২৩ সালের মার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঢাকা ও অন্য বড় শহরের নামী প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিরা হলমার্ক ছাড়াই গয়না বিক্রি করে। তাই রুপার গয়নায় হলমার্ক না থাকলে দাম মেটানোর আগে অন্তত এগুলো মেমোতে লিখে নিন:

  • রুপার মানের ধরন: ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেট, না সনাতন
  • মোট ওজন, ভরি হিসেবে
  • ভরির দর আর মজুরি, আলাদা করে
  • হলমার্ক আছে কি না
  • নমুনা আর মূল লট একই নকশা ও মানের কি না
  • ডেলিভারির তারিখ আর প্যাকিং

তাঁতীবাজার কবে বন্ধ, কখন খোলা

তাঁতীবাজারের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বা খোলার সময় নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র আমরা পাইনি। উৎসবের কোনো কোনো দিনে জুয়েলারি দোকান বন্ধও থাকে: যেমন, বাজুস ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমীতে সারা দেশের জুয়েলারি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন। Roptan-এর মাধ্যমে কিনলে আপনাকে বাজারে যেতেই হয় না।

তাঁতীবাজারে না গিয়েও রুপার গয়না পাইকারি কিনুন

কোন গয়না, কোন মানের রুপা, নকশার ছবি, কত পিস বা কত ভরি, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। বাজারে গিয়ে দোকান খোঁজা, দরদাম বা একা মান যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

রুপার পাইকারি বাজার কোথায়?

পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে। সেখানে সোনা ও রুপার গয়নার ব্যবসা আছে, তবে মূল ব্যবসা রুপার; আশপাশের ব্যবসায়ীরা সাধারণত এখান থেকে পাইকারিতে কেনেন।

শাঁখারীবাজারে কি রুপার গয়না পাওয়া যায়?

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী শাঁখারীবাজার পরিচিত শাঁখা, সিঁদুর, তামা-কাঁসার তৈজসপত্র ও পূজার সামগ্রীর জন্য; রুপার গয়নার পাইকারি কেনাবেচার জায়গা হিসেবে সূত্রে নাম এসেছে তাঁতীবাজারের।

রুপার পাইকারি দাম কত?

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। রুপা সাধারণত ভরি হিসেবে মানভেদে আলাদা দরে বিক্রি হয়, সঙ্গে মজুরি যোগ হয়, আর বাজুসের দরও ঘন ঘন বদলায়; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।

তাঁতীবাজার কবে বন্ধ থাকে?

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনের নির্ভরযোগ্য তথ্য আমরা পাইনি, আর উৎসবের কোনো কোনো দিনে জুয়েলারি দোকান বন্ধ থাকে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

রুপার গয়নায় কি হলমার্ক বাধ্যতামূলক?

বাজুসের ২০২৩ সালের নির্দেশিকায় গয়নায় লেজারে হলমার্ক বসানো বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে, তবে এটি সমিতির নির্দেশিকা, সরকারি আইন নয়, আর রুপার গয়নায় তা কতটা মানা হয়, সে সূত্র আমরা পাইনি। হলমার্ক না থাকলে মানের ধরন মেমোতে লিখে নিন।

রুপার মান কয় ধরনের হয়?

বাজুস রুপার দর চার ধরনে ঘোষণা করে: ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতি। খাদ যত বেশি, দর সাধারণত তত কম।

ঢাকার বাইরে থেকে কীভাবে রুপার গয়না পাইকারি কিনব?

নকশার ছবি, মানের ধরন, পরিমাণ ও ডেলিভারির জেলা লিখে Roptan-কে চাহিদা জানান। পুরো চাহিদা পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।