Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

পেঁয়াজের পাইকারি বাজার

ঢাকায় পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাইকারি ব্যবসা পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তে কেন্দ্রীভূত (আড়ত মানে পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর)। চট্টগ্রামে পেঁয়াজের পাইকারি দরের একটি প্রধান বাজার খাতুনগঞ্জ। দেশি পেঁয়াজ আসে মূলত পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর থেকে, আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আসে স্থলবন্দর দিয়ে।

ঢাকায় পাইকারি
শ্যামবাজারের আড়ত: পেঁয়াজ, রসুন ও আদা
চট্টগ্রামে পাইকারি
খাতুনগঞ্জ
উৎপাদনের এলাকা
পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর
দেশি পেঁয়াজের মৌসুম
মুড়িকাটা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি, পরে হালিকাটা; বীজের পেঁয়াজ মার্চ বা এপ্রিল থেকে
আমদানির স্থলবন্দর
হিলি (দিনাজপুর) ও সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), ডিসেম্বর ২০২৫ এর খবর

পেঁয়াজের পাইকারি বাজার কোথায়

ঢাকায় পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাইকারি ব্যবসা শ্যামবাজারে কেন্দ্রীভূত। আগে এই ব্যবসা মৌলভীবাজার ও চকবাজার এলাকায় ছিল, পরে শ্যামবাজারে সরে আসে। শ্যামবাজারে পেঁয়াজ আড়তদারদের একটি সমিতিও আছে।

চট্টগ্রামে পেঁয়াজের পাইকারি দরের একটি প্রধান বাজার খাতুনগঞ্জ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আমদানির অনুমতির খবরে সেখানে দাম পড়ার খবর এসেছিল, আর ২০২৬ সালে রাজবাড়ীর ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনে খাতুনগঞ্জে পাঠাচ্ছিলেন। খাতুনগঞ্জের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বা খোলার সময় কোনো সূত্রে পাইনি।

উৎপাদনের এলাকায় হাটেও বেচাকেনা হয়। যেমন পাবনার সাঁথিয়ার করমজা চতুর হাট, যেখানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আড়তে পেঁয়াজ বেচাকেনা করেন; ২০২৪ সালের জানুয়ারির খবরে এর হাটবার মঙ্গলবার ও শনিবার; যাওয়ার আগে হাটবার জেনে নিন।

শ্যামবাজার কবে বন্ধ, কখন খোলা

ঢাকা মহানগরের এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকায় ‘শ্যামবাজার কাঁচামালের পাইকারি বাজার’ শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধের দলে আছে (২০১০ সালের সিদ্ধান্ত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রকাশিত; ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবারের বন্ধের তালিকায় ‘শ্যামবাজার পাইকারি দোকান’ নামে আছে)। তবে ওই সিদ্ধান্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দোকান বাদ, আর পেঁয়াজের আড়ত এই ছাড়ের মধ্যে পড়ে কিনা, তা কোনো সূত্রে পাইনি; তাই আড়ত আসলে কোন দিন বন্ধ থাকে, তা নিশ্চিত নয়।

আড়তের খোলার সময়ও কোনো সূত্রে পাইনি। দোকান খোলার সাধারণ নিয়ম অবশ্য এখন সরকারি: ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে। কাঁচামালের আড়ত এই ছাড়ে পড়ে কিনা, তা-ও নিশ্চিত নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

দেশি পেঁয়াজ, মুড়িকাটা আর আমদানি: কোনটা কখন

বাজারে কয়েক রকম পেঁয়াজ আলাদা দামে বিক্রি হয়: দেশি পুরোনো মজুতের পেঁয়াজ, নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ, মুড়িকাটা (আগাম জাত) আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ। বেশি ফলনের আশায় কৃষকেরা হাইব্রিড জাতে ঝুঁকেছেন, তবে সব হাইব্রিড জাত বেশি দিন রাখা যায় না। আকার ধরে পেঁয়াজের গ্রেড ভাগের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইনি, তাই নমুনা দেখে মান মিলিয়ে নিন।

দেশি পেঁয়াজের বছর মোটামুটি এভাবে চলে:

  • অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ: কৃষক সাধারণত আগাম মুড়িকাটা জাত রোপণ করেন।
  • ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি: পাবনায় মুড়িকাটা ওঠে। মুড়িকাটা সাধারণত মজুত রাখা যায় না, তাই কৃষক দাম যা-ই হোক বিক্রি করে দেন।
  • এর মাসখানেকের মধ্যে: প্রধান জাত হালিকাটা ওঠা শুরু হয়।
  • মার্চ বা এপ্রিল: ডিসেম্বরে বীজ বোনা পেঁয়াজ বাজারে আসে।

আমদানির অনুমতি আর পাইকারি দামের ওঠানামা

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আমদানি অনুমতি (আইপি) নিতে হয়। ডিসেম্বর ২০২৫ এ অনুমতি দেওয়া শুরু হয়েছিল দিনে নির্দিষ্টসংখ্যক আইপি দিয়ে, আর সেই আইপির মেয়াদ বলা হয়েছিল ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। তখনকার খবরে পেঁয়াজ এসেছিল দিনাজপুরের হিলি আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। এখন অনুমতি চালু আছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারিনি।

সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়া বা বন্ধ করাকে দামের সঙ্গে জুড়ে রাখে। ডিসেম্বর ২০২৫ এ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছিলেন, দাম কমলে অনুমতি বন্ধ হবে, কারণ কৃষকের কথাও ভাবতে হয়। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে আমদানির ঘোষণার পরদিনই পাইকারি বাজারে দাম কমার খবর এসেছে।

একই বছরে দুই রকম অবস্থাও দেখা গেছে: ২০২৫ সালের শেষে দাম ছিল চড়া, আর ২০২৬ সালের মে মাসের খবরে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকায় দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমেছিল। তাই পুরোনো দরের তালিকা দেখে বাজেট করবেন না; কেনার দিনের দর মিলিয়ে নিন।

কেনার আগে যা দেখবেন, পেঁয়াজ কেন নষ্ট হয়

মজুত রাখা পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে, আর পচন ধরলে পুরো মজুত নষ্ট হতে পারে। ডিসেম্বর ২০২৫ এ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, সংরক্ষণ ও পরিবহনে আগে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হতো, এখন তা ৬ থেকে ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মে মাসে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় সংরক্ষিত পেঁয়াজে ব্যাপক পচনের খবর এসেছিল, আর পচা পেঁয়াজ বাছাইয়ে বাড়তি শ্রমের খরচের কথা বলেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

আড়তে কোন এককে বা কত কমিশনে বিক্রি হয়, তার নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইনি; কেনার আগে বিক্রেতার কাছে জেনে নিন। সাধারণ বিবেচনায় দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:

  • বস্তার ওপর থেকে নয়, মাঝখান থেকে কয়েকটি পেঁয়াজ নিয়ে দেখুন পচা বা নরম আছে কিনা।
  • দেশি না আমদানি, নতুন না পুরোনো মজুত, মুড়িকাটা কিনা জেনে নিন; এদের দাম আলাদা।
  • ওজন সামনে মেপে নিন, কারণ রাখা পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে।
  • দর, পরিমাণ, ধরন ও তারিখ লেখা মেমো বা রশিদ নিন।
  • অন্য জেলায় পাঠালে ট্রাক না কুরিয়ার, খরচ কে দেবে আর পথে পচলে দায় কার, কেনার সময়ই ঠিক করুন।

আড়তে না গিয়েও পেঁয়াজ পাইকারি কিনুন

দেশি না আমদানি, কতটা, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আড়তে গিয়ে দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে, আর আমদানি করা পেঁয়াজ চাইলে তখনকার আমদানি অনুমতির অবস্থাও Roptan যাচাই করে জানায়। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

পেঁয়াজের পাইকারি বাজার কোথায়?

ঢাকায় শ্যামবাজারের আড়ত, যেখানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্রীভূত। চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ পেঁয়াজের পাইকারি দরের একটি প্রধান বাজার।

শ্যামবাজার কবে বন্ধ থাকে?

বন্ধের তালিকায় শ্যামবাজার কাঁচামালের পাইকারি বাজার শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধের দলে, তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ওই সিদ্ধান্তের বাইরে; আড়ত আসলে কোন দিন বন্ধ থাকে, তা নিশ্চিত নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

পেঁয়াজের পাইকারি দাম কত?

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না, কারণ মৌসুম, মজুত আর আমদানির অনুমতির খবরে দর দ্রুত বদলায়। আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।

নতুন দেশি পেঁয়াজ কখন ওঠে?

পাবনায় আগাম মুড়িকাটা সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি জুড়ে ওঠে, এর মাসখানেকের মধ্যে হালিকাটা। ডিসেম্বরে বীজ বোনা পেঁয়াজ মার্চ বা এপ্রিল থেকে বাজারে আসে।

ভারতীয় পেঁয়াজ কোন পথে আসে?

ডিসেম্বর ২০২৫ এর খবরে দিনাজপুরের হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। আমদানি চলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমতিতে; তখনকার অনুমতির মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত, এখনকার অবস্থা নিশ্চিত নয়।

মুড়িকাটা পেঁয়াজ কি মজুত রাখা যায়?

সাধারণত না; এ কারণেই কৃষক মুড়িকাটা উঠলেই বিক্রি করে দেন। বেশি দিন রাখতে চাইলে বিক্রেতার কাছে জাত জেনে নিন, কারণ সব হাইব্রিড জাতও বেশি দিন রাখা যায় না।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।