পাইকারি পণ্য
জার্সির পাইকারি বাজার
ঢাকায় জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রীর বড় বাজার গুলিস্তান, স্টেডিয়াম মার্কেট আর তার আশপাশে (২০২৩ সালের প্রতিবেদন); ২০২৬ সালের জুনেও গুলিস্তানের সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেট আর ফুটপাতে জার্সির বেচাকেনা চলেছে। বন্ধের দিন মার্কেটভেদে আলাদা: স্টেডিয়াম মার্কেট বৃহস্পতিবার, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট শুক্রবার। বাজারের বেশির ভাগ জাতীয় দল ও ক্লাবের জার্সি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অফিশিয়াল জার্সি নয়, অনুকরণ; তাই দোকানের জন্য প্লেইন বা নিজস্ব নকশার জার্সির কথা ভাবুন।
- জার্সির বড় বাজার (ঢাকা)
- গুলিস্তান, স্টেডিয়াম মার্কেট ও আশপাশ
- স্টেডিয়াম মার্কেট ১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেক্স
- বৃহস্পতিবার পুরো দিন বন্ধ (২০২৪ ও ২০২৬ সালের তালিকা)
- গুলিস্তান হকার্স মার্কেট
- শুক্রবার পুরো দিন বন্ধ (২০২৪ ও ২০২৬ সালের তালিকা)
- খোলার সময় (১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে)
- সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা
- চাহিদা বাড়ে
- ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময়
জার্সির পাইকারি বাজার কোথায়
ঢাকায় জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রীর বড় বাজার গড়ে উঠেছে গুলিস্তান, স্টেডিয়াম মার্কেট আর তার আশপাশের এলাকায় (২০২৩ সালের প্রতিবেদন)। ২০২৬ সালের জুনে বিশ্বকাপের আগে গুলিস্তানের ফুটপাত আর সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেটে জার্সির বেচাকেনা দেখা গেছে। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সাধারণত মৌসুমের আগে জার্সি বানিয়ে নেন, আর কেউ কেউ নিজে না বানিয়ে ক্রেতা পেলে অন্য দোকান থেকে এনে বিক্রি করেন।
চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের জুনের এক প্রতিবেদনে জার্সি বিক্রির জায়গা হিসেবে স্টেডিয়াম মার্কেট ও নয়াবাজারের নাম এসেছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের জার্সিই সাধারণত মেলে। চট্টগ্রামের এই দোকানগুলোর বন্ধের দিন কোনো সূত্রে পাইনি।
গুলিস্তানের কোন মার্কেট কবে বন্ধ, কখন খোলা
গুলিস্তানের মার্কেটগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের দুই আলাদা দলে পড়ে, তাই কোন মার্কেটে যাচ্ছেন, তা দেখে যান। রাজধানীর সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকা অনুযায়ী স্টেডিয়াম মার্কেট ১ ও ২ এবং গুলিস্তান কমপ্লেক্স বৃহস্পতিবার পুরো দিন বন্ধ থাকে (২০২৪ সালের তালিকা, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তালিকাতেও একই); ২০২৪ সালের তালিকায় শুক্রবার অর্ধেক দিনও। গুলিস্তান হকার্স মার্কেট শুক্রবার পুরো দিন বন্ধ থাকে (২০২৪ ও ২০২৬ সালের তালিকা); ২০২৪ সালের তালিকায় শনিবার অর্ধেক দিনও। সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেট কোনো তালিকায় নেই।
খোলার সময় এখন সরকারি নিয়মে বাঁধা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও অত্যাবশ্যক সেবা এই নিয়মের বাইরে, খেলার সামগ্রীর দোকান নয়। ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
জার্সি কোথায় তৈরি হয়, কী ধরনের মেলে
২০২৬ সালের জুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে জার্সির বেশির ভাগ কাপড় ও সুতা সাধারণত চীন থেকে আমদানি হয়, আর সেলাই ও উৎপাদন সাধারণত দেশেই হয়, মূলত নারায়ণগঞ্জে; রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের পাশে গড়ে ওঠা ছোট কারখানাগুলো বিশ্বকাপের মৌসুমে হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমদানি করা জার্সিও সাধারণত বাজারে আসে।
ফিটিং বোঝাতে বাজারে সাধারণত দুটি নাম চলে: কিছুটা ঢিলেঢালা ‘ফ্যান ভার্সন’, যা সব বয়সে মানায়, আর খুব হালকা, শরীরঘেঁষা স্লিম ফিটের ‘প্লেয়ার ভার্সন’, যার কাপড়ে বাতাস চলাচলের জন্য মাইক্রো-ভেন্টিলেশন বা জ্যাকার্ড নকশা থাকে (২০২৬ সালের জুনের এক প্রতিবেদন)।
পলিয়েস্টারের জার্সিতে নাম, নম্বর ও নকশা বসাতে সাধারণত সাবলিমেশন প্রিন্ট ব্যবহৃত হয়: এটি ডিজিটাল পদ্ধতি, যেখানে রং কাপড়ের ভেতরে মিশে যায়, তাই স্বাভাবিক ব্যবহারে প্রিন্ট ফাটে না, মিলিয়ে যায় না, উঠেও যায় না। ২০২৬ সালের জুনের খবর অনুযায়ী জার্সিতে নাম লেখানোর চলও বেড়েছে; ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেটে নাম বসানোর আলাদা দোকানের কথা ছিল।
দল বা ক্লাবের লোগোওয়ালা জার্সি: স্বত্বের প্রশ্ন
বাজারে বিক্রি হওয়া জাতীয় দল ও ক্লাবের জার্সির বেশির ভাগই লাইসেন্সপ্রাপ্ত অফিশিয়াল জার্সি নয়, বিভিন্ন মানের অনুকরণ: ২০২৬ সালের জুনে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই এ কথা বলেছেন, আর অনেক ক্রেতা তা জেনেই কেনেন। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সে বছরের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফিশিয়াল জার্সি বিক্রির স্বত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি, তাই বাজারের বেশির ভাগ জার্সিই ছিল নকল।
দল বা ক্লাবের লোগো, প্রতীক আর অফিশিয়াল নকশার জার্সি বিক্রির স্বত্ব থাকে দল বা ক্লাবের হাতে; লাইসেন্স নিয়ে বানানো জার্সিই অফিশিয়াল জার্সি। তাই দোকান বা অনলাইন পেজে বিক্রির জন্য পাইকারি নিলে অন্যের লোগো বা প্রতীক বসানো জার্সি এড়িয়ে চলুন; প্লেইন রঙের জার্সি, কিংবা স্কুল, অফিস বা পাড়ার দলের নিজস্ব নকশার জার্সিতে এই প্রশ্ন ওঠে না।
মৌসুম: বিশ্বকাপের আগে চাহিদা, পরে ঝুঁকি
ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপ এলেই দেশে জার্সির বাজার জমে ওঠে (২০২৩ সালের প্রতিবেদন)। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে, অক্টোবরের শেষে মৌসুমি বেচাকেনা বেড়েছিল; ২০২৬ সালে ১১ জুনের বিশ্বকাপের আগে রাজধানীর বিপণিবিতান ও ফুটপাতে বিক্রি বেড়েছে।
আবার সমর্থিত দল হারলে বিক্রি কমে যায়: ২০২২ সালে একটি দলের প্রথম হারের পর জার্সি বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এক দোকানি বলেছিলেন, বিশ্বকাপের মতো আসরের জার্সি সারা বছর বিক্রি করা যায় না। তাই আসরের জন্য মজুত করলে পরিমাণ হিসাব করে নিন, আর সময় হাতে রেখে অর্ডার দিন।
অর্ডারের আগে যা ঠিক করবেন ও যাচাই করবেন
পাইকারিতে ন্যূনতম কত পিস নিতে হয়, তার এখনকার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইনি; দর পিস না ডজন (১২ পিস) ধরে, তা আগে জেনে নিন। দাম মেটানোর আগে মিলিয়ে নিন:
- নকশা: প্লেইন রং না নিজস্ব নকশা, আর নাম ও নম্বর বসবে কি না; বসলে নামের তালিকা লিখে দিন।
- সাইজ: কোন সাইজ কয়টি, লিখিত দিন।
- কাপড়: পলিয়েস্টার না অন্য কাপড়, আর কাপড় কতটা ভারী, মানে GSM (প্রতি বর্গমিটার কাপড়ের ওজন কত গ্রাম)।
- প্রিন্ট: নমুনা ধুয়ে দেখুন রং বা প্রিন্ট ওঠে কি না।
- ‘মেড ইন’ লেবেল দেখেই উৎস ধরে নেবেন না: ২০২৬ সালের জুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রামের বাজারে বেশির ভাগ বিদেশি জার্সির লেবেলে থাইল্যান্ড লেখা থাকলেও থাইল্যান্ড থেকে জার্সি আমদানির কোনো তথ্য এনবিআরের কাছে ছিল না।
- অন্য জেলায় পাঠাতে কুরিয়ার না পরিবহন, আর ভুল সাইজ বা ত্রুটিপূর্ণ মাল হলে কী হবে, আগেই ঠিক করুন।
গুলিস্তানে না গিয়েও জার্সি পাইকারি কিনুন
কেমন জার্সি (প্লেইন রং না নিজস্ব নকশা, কাপড়, নাম ও নম্বর বসবে কি না), কোন সাইজ কয়টি, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে, এটুকু Roptan-কে জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। মার্কেটে মার্কেটে ঘোরা, দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। খেলার মৌসুমের আগে লাগলে সময় হাতে রেখে জানান। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
পাইকারি জার্সির বাজার কোথায়?
ঢাকায় গুলিস্তান, স্টেডিয়াম মার্কেট আর তার আশপাশ জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রীর বড় বাজার; ২০২৬ সালের জুনেও সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেট আর গুলিস্তানের ফুটপাতে জার্সি বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রামে স্টেডিয়াম মার্কেট ও নয়াবাজারে সাধারণত জার্সি মেলে।
স্টেডিয়াম মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
রাজধানীর বন্ধের তালিকায় স্টেডিয়াম মার্কেট ১ ও ২ বৃহস্পতিবার পুরো দিন বন্ধ (২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তালিকা), আর গুলিস্তান হকার্স মার্কেট শুক্রবার। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
পাইকারিতে কমপক্ষে কয়টি জার্সি নিতে হয়?
এখনকার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে ন্যূনতম পরিমাণ পাইনি। Roptan-কে চাহিদা দিলে দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ কোটেশনে আসে।
ক্লাব বা জাতীয় দলের জার্সি পাইকারি নেওয়ায় ঝুঁকি কী?
বাজারের বেশির ভাগ জাতীয় দল ও ক্লাবের জার্সি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অফিশিয়াল জার্সি নয়, অনুকরণ; অফিশিয়াল জার্সি বিক্রির স্বত্ব থাকে দল বা ক্লাবের হাতে। অন্যের লোগো বা প্রতীক ছাড়া প্লেইন বা নিজস্ব নকশার জার্সিতে এই প্রশ্ন ওঠে না।
জার্সিতে নাম ও নম্বর বসানো যায়?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালের জুনের খবর অনুযায়ী জার্সিতে নাম লেখানোর চল বেড়েছে। পলিয়েস্টার জার্সিতে সাধারণত সাবলিমেশন প্রিন্ট হয়, যাতে স্বাভাবিক ব্যবহারে প্রিন্ট ফাটে না বা ওঠে না; অর্ডারের সময় নাম ও নম্বরের তালিকা দিন।
খেলার মৌসুমের জন্য জার্সি কখন অর্ডার দেব?
আসরের আগেই, সময় হাতে রেখে: ২০২২ সালে বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বেচাকেনা বেড়েছিল, আর সমর্থিত দল হারলে বিক্রি কমে যায়।