Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

টাঙ্গাইল শাড়ির পাইকারি বাজার

টাঙ্গাইল শাড়ির পাইকারি কেনাবেচা হয় মূলত টাঙ্গাইল জেলার তাঁতপল্লী আর হাটে। দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও চণ্ডী টাঙ্গাইল শাড়ির বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, আর সদর উপজেলার করটিয়া হাটে নানা জেলার পাইকার এসে বেশি পরিমাণে শাড়ি কেনেন। কেনার আগে জেনে নিন শাড়িটি কোন সুতার আর কোন তাঁতে বোনা।

যেখানে বোনা হয়
জেলার নানা উপজেলার তাঁতপল্লী; উল্লেখযোগ্য সদর, দেলদুয়ার ও কালিহাতীর গ্রামগুলো
পাইকারি কেন্দ্র
পাথরাইল ও চণ্ডী, দেলদুয়ার উপজেলা
তাঁতের ধরন
হাতে চালানো তাঁত, আধা-স্বয়ংক্রিয় তাঁত, পাওয়ার লুম
বিক্রির মৌসুম
ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ; দুর্গাপূজার আগেও বিক্রি বাড়ে
স্বীকৃতি
বাংলাদেশের জিআই পণ্য (এপ্রিল ২০২৪); ইউনেসকোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় (৯ ডিসেম্বর ২০২৫)

টাঙ্গাইল শাড়ি কোথায় বোনা হয়, পাইকারি কোথায় মেলে

২০২৪ সালের মার্চের এক খবর অনুযায়ী টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার নানা উপজেলার তাঁতপল্লীতে বোনা হয়; উল্লেখযোগ্য তাঁতপল্লী সদর উপজেলার বাজিতপুর, ধুলুটিয়া ও সুরুজে; দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডী ও নলশোধায়; আর কালিহাতী উপজেলার বল্লা ও রামপুরে। দেলদুয়ারকে অনেকে টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী বলেন।

দেলদুয়ারের পাথরাইল ও চণ্ডী টাঙ্গাইল শাড়ির বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের এপ্রিলের এক খবর অনুযায়ী পাথরাইলের দোকানগুলো মূলত পাইকারি বিক্রির। তাই দোকান থেকে পাইকারি কিনতে চাইলে পাথরাইল দিয়ে শুরু করা যায়; তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি কিনতে চাইলে যেতে হয় হাটে।

পাথরাইলের দোকান কখন খোলে আর কবে বন্ধ থাকে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশে সারা দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে, শাড়ির দোকান নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

করটিয়া হাট কবে বসে, আর কোন হাটে শাড়ি মেলে

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া হাটে ঢাকা, সিলেট, দিনাজপুর, রংপুরসহ নানা জেলার পাইকাররা আসেন। তাঁতিরা নিজেদের বোনা শাড়ি হাটে তোলেন, আর পাইকাররা বেশি পরিমাণে কিনে নিজের এলাকায় উৎসবের মৌসুমে বিক্রি করেন।

২০২৩ সালের মার্চ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির খবর অনুযায়ী করটিয়ায় সাধারণত সপ্তাহে দুই দিন, মঙ্গলবার ও বুধবার, শাড়ির হাট বসে। ২০২৬ সালের খবরে পাইকারি বেচাকেনা মঙ্গলবার শুরু হয়ে বুধবার বিকেল পর্যন্ত চলার কথা আছে, আবার একই খবরে হাট বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চলার কথাও আছে; ঘণ্টা ধরে হাটের সময় কোনো সূত্রে নেই। ২০২৩ সালের রোজার সময়ের এক খবরে হাটে পাইকার কম আসার কথাও আছে, তাই মৌসুমেও হাট সব সময় জমজমাট থাকবে, এমন ধরে নেবেন না। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন। হাটে যাওয়ার আগে পরিচিত কোনো তাঁতি বা পাইকারের কাছ থেকে হাটবারটিও জেনে নিন।

২০২৪ সালের এক খবর অনুযায়ী করটিয়া ছাড়াও সদরের বাজিতপুর আর কালিহাতীর সল্লায় সাপ্তাহিক হাট বসে, যেখানে পাইকাররা সাধারণত তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি শাড়ি কেনেন। এই দুই হাট কোন বারে বসে, তা নিশ্চিত জানা যায়নি।

টাঙ্গাইল শাড়ির ধরন ও তাঁত

২০২৪ সালের এপ্রিলের খবর অনুযায়ী টাঙ্গাইলে শাড়ি এখন তিন ধরনের তাঁতে বোনা হয়: হাতে চালানো পিট তাঁত, আধা-স্বয়ংক্রিয় চিত্তরঞ্জন তাঁত আর পাওয়ার লুম। পাওয়ার লুমেও প্রচুর শাড়ি তৈরি হয়। তাই দর নেওয়ার সময় প্রথমেই জেনে নিন শাড়িটি কোন তাঁতে বোনা।

শাড়ির পাশাপাশি টাঙ্গাইলে থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির কাপড়ও তৈরি হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের এক খবর অনুযায়ী ছেলেদের আনস্টিচ কাপড় বা থানের চাহিদাও কম নয়; থান মানে না-কাটা পুরো কাপড়।

২০২৪ সালের মার্চের এক খবরে টাঙ্গাইলের তাঁতে বোনা যে ধরনগুলোর নাম আছে (২০২৬ সালের খবরে টিস্যু সিল্কের কথাও এসেছে):

  • সুতি ও খদ্দর
  • সিল্ক, হাফ সিল্ক, সফট সিল্ক, গ্যাস সিল্ক, দোতারি সিল্ক ও জুট সিল্ক
  • সুতি জামদানি ও সিল্ক জামদানি
  • বালুচুরি, বেনারসি ও কাতান
  • তসর, রেশম, আনারকলি, ধানসিঁড়ি ও মনপুরার মতো নামের শাড়ি

পাইকারি দাম কীসে ঠিক হয়, কখন কিনবেন

টাঙ্গাইল শাড়ির পাইকারি দাম সাধারণত ঠিক হয় সুতার ধরন (সুতি, হাফ সিল্ক, সিল্ক বা সিনথেটিক), নকশার কাজ (যেমন জামদানি নকশা) আর তাঁতের ধরন দেখে। কোন মানের শাড়ির কত দাম, তার নির্ভরযোগ্য কোনো তালিকা নেই, আর দাম বছরভেদে বদলায়; তাই প্রতিটি শাড়ির দর আলাদা করে নিন। কীভাবে গুনে বিক্রি হয় আর ন্যূনতম কত নিতে হবে, তা বিক্রেতাই ঠিক করেন; দর নেওয়ার সময় আগে জেনে নিন।

টাঙ্গাইল শাড়ির বিক্রি বেশি হয় ঈদুল ফিতর আর পহেলা বৈশাখে, দুর্গাপূজার আগেও বিক্রি বাড়ে। পাথরাইলের এক ব্যবসায়ী ২০২৪ সালে বলেছিলেন, বছরের বাকি ১১ মাসে যত শাড়ি বিক্রি হয়, রমজানের এক মাসে প্রায় ততটাই হয়। তাই উৎসবের জন্য কিনতে চাইলে মৌসুম শুরুর আগেই যোগাযোগ করুন।

স্বীকৃতি, আর কেনার আগে যা মিলিয়ে নেবেন

২০২৪ সালের এপ্রিলে শিল্প মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল শাড়িকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি দেয়; আবেদন করেছিল টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন। জিআই মানে পণ্যের পরিচয় একটি নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে জড়িত বলে সরকারি স্বীকৃতি। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির বৈঠকে ইউনেসকো টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্পকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় যুক্ত করে। তবে এসব স্বীকৃতি বয়নের ঐতিহ্যের; কোনো একটি শাড়ি কোথায় বা কোন তাঁতে বোনা, তা এতে প্রমাণ হয় না।

২০২৪ সালের এপ্রিলে এক দোকানি জানিয়েছিলেন, টাঙ্গাইলে সিনথেটিক কাপড়ে জামদানির নকশা বসিয়ে শাড়িও তৈরি হচ্ছে। সুতার মান বা রং পাকা কি না, তা যাচাইয়ের প্রতিষ্ঠিত কোনো নিয়ম টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। নিচের কাজগুলো সাধারণ সাবধানতা, যা যেকোনো শাড়ি পাইকারি কেনার সময় কাজে লাগে:

  • শাড়িটি হাতে চালানো তাঁতে, আধা-স্বয়ংক্রিয় তাঁতে না পাওয়ার লুমে বোনা, তা বিক্রেতার কাছে জেনে মেমোতে লিখিয়ে নিন।
  • সুতার ধরন (সুতি, হাফ সিল্ক, সিল্ক না সিনথেটিক) লিখে রাখুন; জামদানি নকশা দেখলেই জামদানি ধরে নেবেন না।
  • বড় অর্ডারের আগে একটি নমুনা শাড়ি নিন, পরে আসা মাল রং, নকশা ও দৈর্ঘ্যে সেই নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  • রং পাকা কি না বুঝতে নমুনার এক কোণ ভিজিয়ে দেখতে পারেন।
  • মেমোতে ধরন, পরিমাণ, দর আর মোট দাম লেখা আছে কি না দেখুন; অচেনা বিক্রেতাকে পুরো দাম আগাম পাঠাবেন না।

টাঙ্গাইলে না গিয়েও টাঙ্গাইল শাড়ি পাইকারি কিনুন

হাটবার মিলিয়ে টাঙ্গাইলে যাওয়া, তাঁতপল্লী ঘুরে দর মেলানো আর মাল পাঠানোর ব্যবস্থা করা অনেক সময়ের কাজ। Roptan-কে জানান কোন ধরনের শাড়ি (সুতি, হাফ সিল্ক, সফট সিল্ক বা অন্য), কোন তাঁতে বোনা লাগবে, রং ও নকশা, কত পিস, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবের মধ্যে লাগবে। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে হাটে গিয়ে দরদাম করতে বা একা শাড়ি যাচাই করতে হয় না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। ঈদ বা পহেলা বৈশাখের জন্য লাগলে আগেভাগে জানান। নিজে সরবরাহকারীর সঙ্গে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা দিন; সদস্য সরবরাহকারীরা কোট করবেন, আর আপনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

টাঙ্গাইল শাড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও চণ্ডী টাঙ্গাইল শাড়ির বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, আর ২০২৪ সালের খবর অনুযায়ী পাথরাইলের দোকানগুলো মূলত পাইকারি। তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি কিনতে নানা জেলার পাইকাররা যান সদর উপজেলার করটিয়া হাটে।

করটিয়া হাট কবে বসে?

২০২৩ ও ২০২৬ সালের খবর অনুযায়ী সাধারণত মঙ্গলবার ও বুধবার হাট বসে, পাইকারি বেচাকেনা বুধবার বিকেল পর্যন্ত। ঘণ্টা ধরে সময় কোনো সূত্রে নেই; যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

টাঙ্গাইল শাড়ি কত ধরনের হয়?

সুতি, খদ্দর, সিল্ক, হাফ সিল্ক, সফট সিল্ক, গ্যাস সিল্ক, দোতারি সিল্ক, জুট সিল্ক, সুতি ও সিল্ক জামদানি, বালুচুরি, বেনারসি, কাতান, তসরসহ নানা ধরনের শাড়ি টাঙ্গাইলের তাঁতে বোনা হয়। দাম সাধারণত সুতা, নকশা আর তাঁতের ধরন দেখে আলাদা হয়।

হাতে বোনা না পাওয়ার লুমের শাড়ি, বুঝব কীভাবে?

টাঙ্গাইলে হাতে চালানো তাঁত, আধা-স্বয়ংক্রিয় তাঁত আর পাওয়ার লুম, তিন রকম তাঁতেই শাড়ি বোনা হয়, আর চোখে দেখে আলাদা করার নির্ভরযোগ্য কোনো উপায় সূত্রে পাওয়া যায়নি। তাই বিক্রেতার কাছে জেনে মেমোতে তাঁতের ধরন লিখিয়ে নিন।

টাঙ্গাইল শাড়ি কখন বেশি বিক্রি হয়?

ঈদুল ফিতর আর পহেলা বৈশাখে, আর দুর্গাপূজার আগেও বিক্রি বাড়ে। উৎসবের জন্য কিনলে মৌসুম শুরুর আগেই অর্ডার দিন।

টাঙ্গাইলে না গিয়ে কি পাইকারি শাড়ি কেনা যায়?

হ্যাঁ। ধরন, পিস সংখ্যা, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, পণ্য দেখে, আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।