পাইকারি মার্কেট
নারায়ণগঞ্জ পাইকারি মার্কেট
নারায়ণগঞ্জ শহরে তৈরি পোশাকের পাইকারি কেনাবেচা সাধারণত দেওভোগ, নয়ামাটি ও উকিলপাড়ার মতো এলাকার মার্কেটে হয়; এখান থেকে শিশু, নারী ও পুরুষের পোশাক সারা দেশে যায়। শহরের টানবাজার সুতার আর নিতাইগঞ্জ চাল, ডাল, আটা-ময়দা, তেলের মতো ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত; এ দুটির কোনোটিই কাপড়ের বাজার নয়।
- অবস্থান
- নারায়ণগঞ্জ শহর, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে
- শহরের পরিচয়
- বহু শতাব্দীর নদীবন্দর, এখন বস্ত্র উৎপাদনের জাতীয় কেন্দ্র
- যে কাজ হয়
- সুতা কাটা, রং করা, বোনা থেকে পোশাক তৈরি পর্যন্ত
- যে শিল্পের জন্য পরিচিত
- হোসিয়ারি বা নিটওয়্যার
নারায়ণগঞ্জে কোন পাইকারি বাজারে কী পাওয়া যায়
নারায়ণগঞ্জে ‘পাইকারি বাজার’ বললে একটি জায়গা বোঝায় না। পোশাক, সুতা আর ভোগ্যপণ্যের পাইকারি কেনাবেচা সাধারণত শহরের আলাদা আলাদা এলাকায় হয়, তাই আগে ঠিক করুন কী কিনবেন, তারপর কোথায় যাবেন।
- দেওভোগ, নয়ামাটি ও উকিলপাড়া: শিশু, নারী ও পুরুষের তৈরি পোশাকের পাইকারি মার্কেট। এখান থেকে পোশাক সাধারণত সারা দেশের দোকানে যায়।
- টানবাজার: সুতার পাইকারি বাজার, কাপড়ের নয়। এখানকার সুতা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় স্পিনিং মিলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন আর খুচরা বিক্রেতা ও টেক্সটাইল মিলের কাছে সুতা বিক্রি করেন বলে জানা যায়।
- নিতাইগঞ্জ: চাষাড়া মোড় থেকে সোজা দক্ষিণে, শীতলক্ষ্যার তীরে। চাল, ডাল, গম, আটা-ময়দা, গমের ভুসি, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও মসলার পাইকারি বাজার। এটিও কাপড়ের বাজার নয়।
দেওভোগ, নয়ামাটি ও উকিলপাড়া: পোশাকের পাইকারি
দেওভোগ, নয়ামাটি ও উকিলপাড়াসহ শহরের একাধিক পাইকারি মার্কেট থেকে শিশু-কিশোর আর নারী-পুরুষের নানা রঙের তৈরি পোশাক সাধারণত দেশের নানা জেলার দোকানে যায়। দেওভোগের দোকানগুলোতে ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শার্ট, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা আর শিশুদের পোশাক পাইকারি দরে বিক্রি হয় বলে জানা যায়।
এখানে চাহিদা সাধারণত ফ্যাশন আর মৌসুমের সঙ্গে বদলায়। যেমন, একটি প্রতিবেদনে এক মৌসুমে শারারা, কটি আর সিকুইনের কাজ করা ফ্রকের বিক্রি বেশি হওয়ার কথা এসেছে। তাই গত মৌসুমে যা চলেছে তা এবারও চলবে, এমন ধরে না নিয়ে বিক্রেতার কাছে চলতি ডিজাইনের খোঁজ নিন।
অনলাইনে বিক্রি করলে প্রতিটি ডিজাইনের পরিষ্কার ছবি আর সাইজের মাপ বিক্রেতার কাছ থেকে চেয়ে নিন; পরে নিজের ক্রেতাকে সঠিক মাপ জানাতে কাজে লাগবে।
নারায়ণগঞ্জ কেন পোশাক আর সুতার শহর
নারায়ণগঞ্জ বহু শতাব্দী ধরে একটি নদীবন্দর। আগে এখানকার ব্যবসা মূলত স্থানীয় কৃষিপণ্য আর পাট ঘিরে ছিল; এখন শহরটি বস্ত্র উৎপাদনের একটি জাতীয় কেন্দ্র, যেখানে সুতা কাটা, রং করা, বোনা থেকে পোশাক তৈরি পর্যন্ত পুরো কাজটাই হয়।
নারায়ণগঞ্জকে দেশের হোসিয়ারি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র বলা হয়। হোসিয়ারি মানে নিট কাপড়ের পোশাক, যেমন গেঞ্জি; নিট কাপড় টানলে একটু বাড়ে। এ দেশে হোসিয়ারি শিল্পের যাত্রাও শুরু হয়েছিল এই শহরে: ১৯২১ সালে টানবাজারে হাতে চালানো মেশিন দিয়ে প্রথম কারখানাটি চালু হয় বলে জানা যায়। আজকের টানবাজার অবশ্য সুতার পাইকারি বাজার হিসেবেই পরিচিত।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে হওয়ায় কাঁচামাল আনা আর তৈরি পণ্য পাঠানো সহজ ছিল, আর নিট কাপড় ধোয়ার জন্য ভালো পানি পাওয়া যেত; এখানে হোসিয়ারি শিল্প বেড়ে ওঠার এটি একটি বড় কারণ। গত শতকের বিশ ও তিরিশের দশকে শীতলক্ষ্যার তীরে বেশ কয়েকটি সুতাকল ও বস্ত্রকলও গড়ে উঠেছিল।
কীভাবে যাবেন, কবে খোলা থাকে
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে সাধারণত এই সড়কগুলোর কোনো একটি ধরে যাওয়া হয়: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, অথবা নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে কমিউটার ট্রেনও চলে; রওনা দেওয়ার আগে সময়সূচি দেখে নিন।
দেওভোগ, নয়ামাটি, উকিলপাড়া, টানবাজার বা নিতাইগঞ্জের নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
পাইকারি পোশাক কেনার আগে যা দেখবেন
লট মানে একসঙ্গে বিক্রি হওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল। ডজন বা লট ধরে কিনলে দাম ঠিক করার আগেই জেনে নিন লটে কোন কোন সাইজ আর রং আছে, আর ন্যূনতম কত পিস নিতে হবে। প্রথমবার কোনো বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে বড় অর্ডারের আগে কয়েকটি নমুনা পিস নিয়ে দেখুন।
- প্রতিটি সাইজ থেকে অন্তত একটি পিস খুলে মাপ মিলিয়ে নিন।
- কাঁধ, বগল আর সেলাইয়ের জোড় হালকা টেনে দেখুন সুতা খুলে আসে কি না।
- নিট কাপড় টেনে ছেড়ে দিলে আগের আকারে ফেরে কি না দেখুন।
- ভেজা সাদা কাপড় দিয়ে ঘষে দেখুন রং ওঠে কি না।
- সিকুইন, পুঁতি বা এমব্রয়ডারির কাজ শক্ত করে বসানো কি না দেখুন।
- পেমেন্ট ক্যাশে না মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হবে, মেমো পাবেন কি না, আর মাল কুরিয়ারে না ট্রান্সপোর্টে যাবে, আগেই ঠিক করুন।
- ঈদ বা শীতের মতো মৌসুমের পোশাক মৌসুম শুরুর আগে হাতে পাওয়ার মতো সময় রেখে অর্ডার দিন।
নারায়ণগঞ্জ না গিয়েও পাইকারি কিনুন
Roptan-কে লিখে জানান কোন পোশাক বা পণ্য লাগবে, কোন সাইজ ও রং, কত পরিমাণ, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবের মধ্যে দরকার। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পাঠানোর আগে মাল দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়।
আপনি লেনদেন করেন শুধু Roptan-এর সঙ্গে, তাই বাজারে বাজারে ঘোরা, দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না। পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। সাইটে কোনো দাম দেওয়া নেই; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে সরাসরি লেনদেন করতে চাইলে সাইটের Requirement board-এ চাহিদা দিন; সদস্য সরবরাহকারীরা আপনাকে কোট করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জের পাইকারি কাপড়ের মার্কেট কোথায়?
তৈরি পোশাকের পাইকারি মার্কেট সাধারণত শহরের দেওভোগ, নয়ামাটি ও উকিলপাড়ার মতো এলাকায়। এসব মার্কেট থেকে শিশু, নারী ও পুরুষের পোশাক সারা দেশে যায়।
টানবাজারে কি কাপড় পাওয়া যায়?
টানবাজার সুতার পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত, কাপড়ের নয়। এখানকার ব্যবসায়ীরা স্থানীয় স্পিনিং মিলের এজেন্ট হিসেবে সুতা বিক্রি করেন বলে জানা যায়। তৈরি পোশাকের জন্য দেওভোগ, নয়ামাটি বা উকিলপাড়ার মার্কেটে যান।
নিতাইগঞ্জ বাজারে কী পাওয়া যায়?
নিতাইগঞ্জ চাল, ডাল, গম, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও মসলার পাইকারি বাজার; শহরের দক্ষিণে, শীতলক্ষ্যার তীরে। কাপড় বা পোশাকের জন্য এটি নয়।
নারায়ণগঞ্জের পাইকারি মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
এসব মার্কেটের নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ যাব কীভাবে?
সাধারণত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়ক, লিংক রোড বা নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক ধরে যাওয়া হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে কমিউটার ট্রেনও চলে; রওনা দেওয়ার আগে সময়সূচি দেখে নিন।
থান বা গজ কাপড় কোথায় পাব?
নারায়ণগঞ্জের পাইকারি মার্কেটগুলো সাধারণত তৈরি পোশাকের জন্য পরিচিত। থান বা গজ কাপড়ের জন্য ইসলামপুর ও বাবুরহাটের পাতা দেখুন, অথবা কাপড়ের ধরন ও পরিমাণ লিখে Roptan-কে জানান।
নারায়ণগঞ্জ না গিয়ে পাইকারি পোশাক কেনার উপায় কী?
Roptan-কে পোশাকের ধরন, সাইজ, পরিমাণ আর ডেলিভারির জেলা জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, মাল দেখে, বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।
