Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

গমের ভুষির পাইকারি বাজার

গমের ভুসি (অনেকে লেখেন ভুষি) পাইকারি কেনার জন্য আলাদা কোনো বাজারের নাম নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি; ২০২৬ সালের আগস্টের এক প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জকে আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, লবণ, চিনি ও গোখাদ্যের পাইকারি কেন্দ্র বলা হয়েছে। জেলার বাজারে সাধারণত গোখাদ্যের দোকানে বস্তা ধরে ভুসি বিক্রি হয়, আর বস্তার ওজন এলাকাভেদে ৩৫, ৩৭ বা ৫০ কেজি। তাই কেনার আগে ধরন, বস্তার ওজন আর মান মিলিয়ে নেওয়াই আসল কাজ।

কী
আটা-ময়দার কলে গম ভাঙার উপজাত, দানার বাইরের স্তর
যে পশুর খাবারে লাগে
গরু, মহিষ ও ছাগল
বস্তার ওজন
এলাকাভেদে ৩৫, ৩৭ বা ৫০ কেজি
চাহিদা বাড়ে
কোরবানির ঈদের আগে
লাইসেন্স যাচাই
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনলাইন ট্রেড পোর্টালে

গমের ভুসি কী, কোন পশুর খাবারে লাগে

গমের ভুসি হলো আটা-ময়দার কলে গম ভাঙার সময় আলাদা হওয়া দানার বাইরের স্তর, সঙ্গে সামান্য শাঁস। দেশের খামারে গরু ও মহিষ মোটাতাজা করতে খড়, ঘাস, খইল আর সাইলেজের সঙ্গে ভুসি মিশিয়ে খাওয়ানো হয়, ছাগলের খাবারেও ভুসি চলে; ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের খামারের খবরে এমনটাই আছে।

হাঁস-মুরগি বা মাছের খাবারে ভুসির ব্যবহার নিয়ে দেশের কোনো সূত্র পাইনি। পশুখাদ্যের একটি আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী বেশি আঁশের কারণে মাছের খাবারে ভুসি সীমিতভাবে চলে।

নাম নিয়ে সাবধান: বাজারে ‘ভুসি’ বলতে সাধারণত মসুর, ছোলা বা মুগ ডালের খোসাও বোঝায়, আর ধানের কুঁড়া আলাদা পণ্য। তাই অর্ডারে স্পষ্ট লিখুন ‘গমের ভুসি’।

ভুসির পাইকারি কেনাবেচা কোথায় হয়

ভুসির আলাদা কোনো আড়তের (আড়ত মানে পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর) নাম সূত্রে নেই, তাই এখানে কোনো আড়তের নাম দিচ্ছি না। ২০২৬ সালের আগস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ শহরে শীতলক্ষ্যার তীরের নিতাইগঞ্জ আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, লবণ, চিনি ও গোখাদ্যের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাকেন্দ্র, তবে প্রতিবেদনে ভুসির নাম আলাদা করে নেই। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী যানজটের কারণে মালবাহী ট্রাক নিতাইগঞ্জে ঢোকে না, দূরে ট্রাক রেখে মাল আনা-নেওয়া করতে হয়।

ঢাকায় কোরবানির ঈদের আগে কারওয়ান বাজার, গোলাপবাগ, শনির আখড়া আর কেরানীগঞ্জের সুলতানি হাটে মৌসুমি বিক্রেতারা খড়-ঘাসের সঙ্গে গমের ভুসিও বেচেন (২০২৫ ও ২০২৬ সালের খবর); তাঁরা স্থায়ী ব্যবসায়ী নন। জেলা ও উপজেলায় সাধারণত স্থানীয় বাজারের গোখাদ্যের দোকানে বস্তা ধরে ভুসি মেলে; রংপুর অঞ্চলের এমন দোকানে দানাদার ফিড, চালের খুদ আর ধানের কুঁড়াও বিক্রির খবর আছে।

খোলার সময় নিয়ে সরকারি নিয়ম হলো: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়। গোখাদ্যের আড়ত এর আওতায় পড়ে কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়, আর ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

ভুসির ধরন আর বস্তার ওজন

২০২৫ সালের জুনে কারওয়ান বাজারের এক মৌসুমি দোকানে গমের ভুসি ছিল তিন রকম: মোটা, চিকন আর মিশ্রণ। এটি সবার মানা কোনো গ্রেড-তালিকা নয়, তাই কোন ধরন চান, নমুনা দেখে ঠিক করুন। আন্তর্জাতিকভাবে ভুসি সাধারণত খোলা অবস্থায় বা পেলেট, মানে চাপ দিয়ে বানানো ছোট দানা আকারে বিক্রি হয়।

বস্তার ওজন সব জায়গায় এক নয়: রংপুর অঞ্চলে সাধারণত ৩৭ কেজির বস্তা (২০২৩ ও ২০২৪ সালের খবর), আর চট্টগ্রামের এক খামারি ২০২৫ সালে ৩৫ কেজির ও ভোলার এক খামারি ২০২৬ সালে ৫০ কেজির বস্তার কথা বলেছেন। তাই শুধু বস্তার দর শুনে তুলনা করবেন না; আগে জেনে নিন বস্তায় কত কেজি, তারপর কেজিপ্রতি হিসাব করুন।

পাইকারি দাম, মৌসুম আর ন্যূনতম অর্ডার

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না, আর পুরোনো খবরের দর দেখে এখনকার বাজেট করাও ঠিক নয়। ন্যূনতম কত বস্তা নিতে হবে, এর নির্দিষ্ট নিয়ম কোনো সূত্রে পাইনি; বিক্রেতার কাছে জেনে নিন।

কোরবানির ঈদের আগে ভুসির চাহিদা বাড়ে। ২০২৬ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে ঢাকার পশুর হাটে এক বা দুটি গরুর ক্রেতারা ছোট প্যাকেট বেশি কিনেছেন, তাই দোকানে খুচরা বেচতে চাইলে ছোট প্যাকেটের কথাও ভাবুন, আর ঈদের মাল আগেভাগে অর্ডার দিন।

দাম সাধারণত ঠিক হয় এসব দিয়ে:

  • বস্তার ওজন: ৩৫, ৩৭ না ৫০ কেজি।
  • ধরন ও মান: মোটা, চিকন না মিশ্রণ, আর ভুসি কতটা শুকনো ও পরিষ্কার।
  • পরিমাণ: কত বস্তা, একবারে না কয়েক দফায়।
  • মৌসুম: কোরবানির আগে চাহিদা বেশি।
  • পরিবহন: কোন জেলায় যাবে, আর ট্রাক বাজারের ভেতরে ঢুকতে পারে কি না।

দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন

ওই আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী ভালো ভুসি বড়, শুকনো আর একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে থাকে না এমন পাতলা টুকরোর হয়, গায়ে হালকা ময়দার আস্তরণ থাকে; মিহি করে গুঁড়ো করা ভুসির গন্ধ সহজে নষ্ট হতে পারে। বস্তা খুলে দেখে নিন:

  • এটি গমের ভুসি কি না, ডালের খোসা বা ধানের কুঁড়া নয় তো।
  • ভুসি শুকনো ও ঝরঝরে কি না, দলা বাঁধা বা স্যাঁতসেঁতে নয় তো।
  • গন্ধ স্বাভাবিক কি না; বাসি বা নষ্ট গন্ধ পেলে নেবেন না।
  • বস্তা পাল্লায় মেপে বলা ওজনের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, আর শুধু ওপরের বস্তা নয়, কয়েকটি বস্তা খুলে দেখুন।
  • দর, বস্তার সংখ্যা, প্রতি বস্তার ওজন আর তারিখ লেখা মেমো নিন।
  • পরিবহনের সময় বস্তা যেন না ভেজে, ঢেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

পশুখাদ্যের আইন আর বিক্রেতার লাইসেন্স যাচাই

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া পশুখাদ্য উৎপাদন, আমদানি, বিপণন বা বিক্রি করা যায় না, ভেজাল পশুখাদ্য বিক্রি নিষিদ্ধ, আর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিক্রেতার কাছ থেকেও নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করাতে পারেন। তবে বস্তায় খোলা বিক্রি হওয়া ভুসি এই আইনের ‘পশুখাদ্য’ সংজ্ঞায় পড়ে কি না, আর ভুসির দোকানির আলাদা লাইসেন্স লাগে কি না, কোনো সূত্রে স্পষ্ট নয়।

বিক্রেতা পশুখাদ্যের লাইসেন্স দেখালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনলাইন ট্রেড পোর্টালের ‘অনলাইন যাচাই’ অংশে সেটি আসল কি না মিলিয়ে নিতে পারেন।

বাজারে না গিয়েও গমের ভুসি পাইকারি কিনুন

কোন ধরনের গমের ভুসি, কত বস্তা, কত কেজির বস্তায়, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবের মধ্যে লাগবে, এটুকু Roptan-কে জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আড়তে আড়তে ঘোরা, দরদাম বা একা বস্তা যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে, মানে লিখিত দরপ্রস্তাবে। কোরবানির আগে লাগলে সময় হাতে রেখে জানান। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

গমের ভুষির পাইকারি বাজার কোথায়?

শুধু ভুসির জন্য আলাদা কোনো পাইকারি বাজারের নাম নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জকে আটা, ময়দা, তেল, লবণ, চিনি ও গোখাদ্যের পাইকারি কেন্দ্র বলা হয়েছে, আর জেলার বাজারে সাধারণত গোখাদ্যের দোকানে বস্তা ধরে ভুসি মেলে।

ঢাকায় ভুসি পাইকারি বাজার কোথায়?

ঢাকায় সারা বছর চলা ভুসির পাইকারি বাজারের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইনি। কোরবানির ঈদের আগে কারওয়ান বাজার, গোলাপবাগ, শনির আখড়া আর কেরানীগঞ্জের সুলতানি হাটে মৌসুমি বিক্রেতারা ভুসি বেচেন, তবে তাঁরা স্থায়ী ব্যবসায়ী নন।

এক বস্তা ভুসিতে কত কেজি থাকে?

এলাকাভেদে আলাদা: খবরে ৩৫, ৩৭ ও ৫০ কেজির বস্তার কথা আছে, রংপুর অঞ্চলে সাধারণত ৩৭ কেজি। দর তুলনার আগে বস্তার ওজন জেনে কেজিপ্রতি হিসাব করুন।

গমের ভুসির পাইকারি দাম কত?

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম সাধারণত বস্তার ওজন, ভুসির ধরন ও মান, পরিমাণ, মৌসুম আর পরিবহনের ওপর নির্ভর করে; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।

ভালো ভুসি চিনব কীভাবে?

ভালো ভুসি বড়, শুকনো, ঝরঝরে টুকরোর হয়, গায়ে হালকা ময়দার আস্তরণ থাকে; দলা বাঁধা বা বাসি গন্ধের ভুসি নেবেন না। আর নিশ্চিত হোন এটি গমের ভুসি, ডালের খোসা বা ধানের কুঁড়া নয়।

ভুসি বিক্রেতার লাইসেন্স কীভাবে যাচাই করব?

বিক্রেতা পশুখাদ্যের লাইসেন্স দেখালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনলাইন ট্রেড পোর্টালের ‘অনলাইন যাচাই’ অংশে সেটি আসল কি না দেখে নিন। খোলা ভুসির বিক্রেতার কোন লাইসেন্স লাগে, তা কোনো সূত্রে স্পষ্ট নয়।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।