পাইকারি পণ্য
চশমা ও চশমার ফ্রেমের পাইকারি বাজার
চশমার ফ্রেম ও রোদচশমার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত বাজার পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী, সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গার কাছে। ঢাকা ও অন্য জেলার খুচরা দোকানিরা এখান থেকে মাল নেন, আবার একই দোকানে খুচরাও বিক্রি হয়; ২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী দোকানগুলো শুক্রবার পুরো দিন আর শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। মালের বেশির ভাগই চীন থেকে আমদানি করা, তাই পাইকারি নেওয়ার আগে নমুনা হাতে নিয়ে কবজা, উপাদান আর লেবেল মিলিয়ে নিন।
- পাইকারি বাজার
- পাটুয়াটুলী, পুরান ঢাকা: সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গার কাছে, ইসলামপুরের কাপড়ের বাজারের পাশে
- সাপ্তাহিক বন্ধ
- শুক্রবার পুরো দিন, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত (২০২৪ সালের তালিকা; ২০২৬ সালের অক্টোবরের দৈনিক তালিকাতেও নাম আছে)
- খোলার সময়
- সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা (১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে সরকারি নির্দেশ)
- যা পাওয়া যায়
- প্লাস্টিক, শেল বা সেলুলয়েড, ধাতু ও টাইটেনিয়ামের ফ্রেম, রোদচশমা, চশমার বাক্স ও পরিষ্কারের কাপড়
- কোথা থেকে আসে
- বেশির ভাগ চীন থেকে আমদানি করা, অল্প কিছু ভারত থেকে

ছবিটি পণ্যের ধরন বোঝাতে দেওয়া। Photo: “Optical photochromic lenses” by Albarubescens, CC BY-SA 4.0.
চশমার পাইকারি বাজার কোথায়: পাটুয়াটুলী
পাটুয়াটুলী পুরান ঢাকায়, সদরঘাট আর বুড়িগঙ্গা নদীর কাছে। বাহাদুর শাহ পার্ক (পুরোনো নাম ভিক্টোরিয়া পার্ক) পেরিয়ে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ালে একটি ফুটওভার ব্রিজ পড়ে; তার ডান দিকে, ইসলামপুরের কাপড়ের বাজারের গা ঘেঁষে চশমার এই বাজার।
২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নানা প্রতিবেদনে পাটুয়াটুলীকে চশমার পরিচিত পাইকারি বাজার বলা হয়েছে। ঢাকা আর ঢাকার বাইরের খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে চশমা নিয়ে যান, আবার সাধারণ ক্রেতাও অল্প কয়েকটা কিনতে পারেন। ২০২২ ও ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে এলাকার কয়েকটি মার্কেট ও টাওয়ারে চশমার দোকানের কথা আছে, আর ২০২৪ সালের দোকান বন্ধের তালিকায় ‘পাটুয়াটুলী ইলেকট্রনিকস ও অপটিক্যাল মার্কেট’ নামে একটি মার্কেটের নামও এসেছে।
পাটুয়াটুলী কবে বন্ধ, কখন খোলা
২০২৪ সালের জানুয়ারির দোকান বন্ধের তালিকা অনুযায়ী পাটুয়াটুলীর দোকান শুক্রবার পুরো দিন আর শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ২০২৬ সালের ২ ও ৩ অক্টোবরের দৈনিক বন্ধের তালিকাতেও পাটুয়াটুলীর নাম আছে।
বাকি দিনগুলোতে খোলার সময় এখন সরকারি নিয়মে বাঁধা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়। খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এই নিয়মের বাইরে; চশমার দোকান সেই ছাড়ের মধ্যে পড়ে, এমন কিছু কোনো সূত্রে পাইনি। ২০২৬ সালে এই সময়সীমা কয়েকবার বদলেছে, তাই যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন। ঢাকার বাইরে থেকে এলে শুক্রবার আর শনিবারের সকাল বাদ দিয়ে দিন ঠিক করুন।
কোন ধরনের ফ্রেম ও রোদচশমা পাওয়া যায়
২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে পাটুয়াটুলীর দোকানে প্লাস্টিক, শেল বা সেলুলয়েড, ধাতু আর টাইটেনিয়ামের ফ্রেমের কথা আছে। পাশাপাশি রোদচশমা বিক্রি হয়, আর চশমার বাক্স ও পরিষ্কার করার কাপড়ও এখানে বেশি পরিমাণে কেনা যায়।
ফ্রেম ও রোদচশমার প্রায় সবই আমদানি করা, বেশির ভাগ চীন থেকে, অল্প কিছু ভারত থেকে; দেশে হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা মূলত কম দামের ফ্রেম বানায়, যেমন প্লাস্টিকের ফ্রেম। ব্যবসায়ীদের কেউ চীনে গিয়ে সরাসরি অর্ডার দেন, কেউ এজেন্ট বা বৈধ আমদানিকারকের মাধ্যমে মাল আনেন। ২০২২ ও ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে চালান দেরিতে আসার কথা আছে, তাই নির্দিষ্ট মডেল বা রং চাইলে হাতে সময় রেখে অর্ডার দিন।
পাইকারিতে কীভাবে কেনা হয়, দাম কীসে ঠিক হয়
পাটুয়াটুলীতে সাধারণত পাইকারি আর খুচরা দুইভাবেই কেনা যায়। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেশি পরিমাণে নিলে দর কমে আর দরদাম চলে; ২০২১ সালের আরেক প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের এক দিনেই বড় পরিমাণে চশমা কিনে নেওয়ার কথা আছে। চশমার সঙ্গে সাধারণত বাক্স ও কাপড় দেওয়া হয়। তবে ন্যূনতম কত পিস নিতে হবে, কিংবা ডজন বা কার্টন ধরে বিক্রি হয় কি না, তার নির্দিষ্ট নিয়ম কোনো সূত্রে পাইনি; বিক্রেতার কাছে আগে জেনে নিন।
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। চশমার ফ্রেমের পাইকারি দাম সাধারণত নির্ভর করে এসবের ওপর:
- ফ্রেমের উপাদান: প্লাস্টিক, সেলুলয়েড, ধাতু না টাইটেনিয়াম।
- নকশা ও কারিগরি: কবজা, স্ক্রু আর রং বা প্রলেপের মান।
- রোদচশমায় UV সুরক্ষার লেবেল বা পরীক্ষার প্রতিবেদন আছে কি না।
- বাক্স ও কাপড়সহ, নাকি শুধু ফ্রেম।
- পরিমাণ: বেশি নিলে দর সাধারণত কমে।
- আমদানি: মাল কোন দেশ থেকে, কোন চালানে আসছে।
কেনার আগে যা যাচাই করবেন
পাইকারি নেওয়ার আগে প্রতিটি মডেলের একটি নমুনা হাতে নিয়ে দেখুন:
- কবজা ও স্ক্রু: ডাঁটি কয়েকবার খুলে আবার ভাঁজ করুন; ঢিলে লাগে কি না, স্ক্রু ঠিকমতো আটকানো কি না।
- গড়ন: টেবিলে রাখলে দুই ডাঁটি সমান থাকে কি না, কিনারা খসখসে বা ধারালো কি না।
- উপাদান: বিক্রেতা যে উপাদানের কথা বলছেন, মেমোতে সেটাই লেখা হচ্ছে কি না।
- রোদচশমার লেবেল: ‘UV400’ লেখা থাকলে সাধারণত বোঝায়, লেন্সটি ৪০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি (UVA ও UVB) আটকানোর জন্য তৈরি। লেন্সের গাঢ় রং বা বেশি দাম দেখে UV সুরক্ষা ধরে নেবেন না; প্রস্তুতকারকের লেবেল বা পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে নিন।
- নাম ও লোগো: অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বা লোগো নকল করে বসানো ফ্রেম বা রোদচশমা নেবেন না; ২০০৯ সালের ট্রেডমার্কস আইনে মিথ্যা ট্রেডমার্কযুক্ত পণ্য বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ।
- গোনা ও মেমো: মডেল, রং, পিস আর বাক্স ও কাপড়ের সংখ্যা মেমোর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
মৌসুম আর অন্য জেলায় পাঠানো
২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী চশমার ব্যবসা সারা বছর চলে, তবে রমজান আর ঈদের সময় বিক্রি সাধারণত চোখে পড়ার মতো বাড়ে। তাই ঈদের আগে দোকান বা অনলাইন পেজের জন্য মাল লাগলে আগেভাগে অর্ডার দিন।
অন্য জেলায় পাঠাতে প্রতিটি চশমা বাক্সে ভরে বা আলাদা করে মুড়িয়ে শক্ত কার্টনে প্যাক করা ভালো। মাল কুরিয়ারে যাবে নাকি পরিবহনে, খরচ কে দেবে আর পথে ফ্রেম ভাঙলে বা লেন্সে দাগ পড়লে দায় কার, তা কেনার সময়ই ঠিক করে নিন।
পাটুয়াটুলীতে না গিয়েও চশমার ফ্রেম পাইকারি কিনুন
কোন উপাদানের ফ্রেম বা কেমন রোদচশমা, কোন মডেল ও রং, কত পিস, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে, এটুকু Roptan-কে জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। পুরান ঢাকায় দোকানে দোকানে ঘোরা, দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। ঈদের আগে লাগলে সময় হাতে রেখে জানান। নিজে সরবরাহকারীর সঙ্গে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা দিন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
চশমার পাইকারি বাজার কোথায়?
পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে, সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গার কাছে, ইসলামপুরের কাপড়ের বাজারের পাশে। ঢাকা ও অন্য জেলার খুচরা দোকানিরা এখান থেকে চশমার ফ্রেম ও রোদচশমা পাইকারি নেন।
পাটুয়াটুলী চশমার মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী শুক্রবার পুরো দিন আর শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ; ২০২৬ সালের অক্টোবরের দৈনিক তালিকাতেও নাম আছে। অন্য দিনগুলোতে ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের সরকারি নিয়মে দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
চশমার ফ্রেমের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম সাধারণত ফ্রেমের উপাদান, কারিগরি, বাক্স ও কাপড় আর পরিমাণের ওপর নির্ভর করে, বেশি নিলে দর কমে; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
পাটুয়াটুলী থেকে কি খুচরা চশমাও কেনা যায়?
হ্যাঁ। দোকানগুলো মূলত পাইকারি বিক্রি করলেও সাধারণত খুচরাও বিক্রি করে, আর দরদাম চলে।
রোদচশমায় UV সুরক্ষা আছে কি না বুঝব কীভাবে?
লেবেলে ‘UV400’ আছে কি না দেখুন, আর প্রস্তুতকারকের লেবেল বা পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে নিন। লেন্স গাঢ় বা দাম বেশি হলেই UV সুরক্ষা আছে, এমন ধরে নেবেন না।
চশমার ফ্রেম কোথা থেকে আসে?
বেশির ভাগ চীন থেকে আমদানি করা, অল্প কিছু ভারত থেকে; দেশে হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা মূলত কম দামের ফ্রেম বানায়, যেমন প্লাস্টিকের ফ্রেম।
ঢাকার বাইরে থেকে চশমার ফ্রেম পাইকারি কীভাবে কিনব?
ফ্রেমের উপাদান, মডেল বা রং, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, পণ্য দেখে, আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।