পাইকারি পণ্য
ফলের পাইকারি বাজার: বাদামতলী ও কলার আড়ত
ঢাকায় ফলের পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট, বুড়িগঙ্গার তীরে। এখানে আমদানি করা মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুরের পাশাপাশি দেশি মৌসুমি ফলও মেলে। কলা আসে জেলার হাট থেকে ঢাকার আড়তে; কোথায় কিনবেন, কীভাবে কেনা হয় আর কী দেখে কিনবেন, তা নিচে।
- ঢাকায় পাইকারি
- বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট, পুরান ঢাকা, বুড়িগঙ্গার তীরে
- যা পাওয়া যায়
- আমদানি ফল (মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুর, খেজুর), সঙ্গে দেশি মৌসুমি ফল (২০২৫ সালের খবর)
- ঢাকার কলা আসে
- পাবনা, ফরিদপুর ও নরসিংদী থেকে (২০২৬ সালের খবর)
- উত্তরাঞ্চলের কলার হাট
- দশমাইল বাজার, কাহারোল উপজেলা, দিনাজপুর (২০২৬ সালের খবর)

ছবিটি পণ্যের ধরন বোঝাতে দেওয়া। Photo: “Mangos - single and halved” by Ivar Leidus, CC BY-SA 4.0.
ফলের পাইকারি বাজার কোথায়
২০২৫ সালের খবর অনুযায়ী পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট ঢাকার ফল-পাইকারির কেন্দ্র; বাজারটি বুড়িগঙ্গার তীরে। খুচরা বিক্রেতা, দোকানদার আর অনলাইন বিক্রেতারা ফল কিনতে সাধারণত এখানেই আসেন।
২০২৫ সালের অক্টোবরের খবর অনুযায়ী এখানে আমদানি ফলের বড় কারবার: মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুরের মতো ফল আসে মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন ও ভারত থেকে, আর খেজুর আসে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দেশি মৌসুমি ফলও পাওয়া যায়; যেমন ২০২৫ সালের মে মাসে এখানে আম আর চায়না-থ্রি, বোম্বাই ও বেলারি জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছিল, লিচু এসেছিল মূলত দিনাজপুর, পাবনা ও রাজশাহী থেকে।
কখন যাবেন: ২০২৫ সালের অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেচাকেনা শুরু হয় ভোরে, সাধারণ ক্রেতারা সাধারণত সকাল ৬টা থেকে আসেন, আর কেনাবেচা চলে দুপুরের পর পর্যন্ত। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম আছে, খাবারের দোকান এর বাইরে; ফলের আড়ত এই ছাড় পায় কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়, আর ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাদামতলীতে ফল কীভাবে কেনা হয়, দাম কীসে ঠিক হয়
এখানে ফল সাধারণত কার্টন বা ক্রেট ধরে বিক্রি হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরের খবর অনুযায়ী এক কার্টনে মাল্টা সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কেজি, কমলা ১২ থেকে ১৩ কেজি, আর আঙুর ৬ থেকে ৭ কেজি থাকে। আম বিক্রি হয় ক্যারেটে, প্রতি ক্যারেটে প্রায় ২২ থেকে ২৩ কেজি (২০২৫ সালের মে মাসের খবর)। ন্যূনতম কত কার্টন নিতে হবে, তার নির্দিষ্ট নিয়ম সূত্রে পাইনি; বিক্রেতার কাছে জেনে নিন।
দর বলা হয় কার্টন বা ক্যারেট ধরে, তাই প্রতি কার্টনে কত কেজি, তা মিলিয়ে নিন। দাম সাধারণত ঠিক হয় এসব দিয়ে:
- ফল ও জাত: একই ফলের ভিন্ন জাতের দর আলাদা।
- আকার ও মান: বড়, সমান আকারের আর দাগহীন ফলের দর সাধারণত বেশি।
- মৌসুম: দেশি ফলের দর মৌসুমের শুরু, মাঝ আর শেষে বদলায়।
- আমদানি ফলে উৎস দেশ ও আমদানির খরচ।
- পরিমাণ: বেশি কার্টন নিলে দর নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে।
কলার পাইকারি বাজার: আড়ত আর হাট
২০২৬ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় কলার আড়ত আছে বাদামতলী, কারওয়ান বাজার, তেজতুরি বাজার, যাত্রাবাড়ী ও টঙ্গীতে। ঢাকার আড়তের কাঁচা কলা আসে পাবনা, ফরিদপুর ও নরসিংদী থেকে, বেশির ভাগ সাগর ও চম্পা জাতের।
উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশমাইল বাজার কাঁচা কলার বড় হাট হিসেবে পরিচিত; ২০২৬ সালের আগস্টের খবর অনুযায়ী এখান থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রাকভর্তি কলা ঢাকায় পাঠান, আর বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত কলার মৌসুমে হাটটি রোজ বসে। রংপুরের মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী হাট আর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফাঁসিতলা হাটেও কলা বিক্রি হয় (২০২৬ সালের জুলাইয়ের খবর)। এসব হাটে সাগর, মালভোগ, চিনি চম্পা ও মেহের সাগর জাতের কলা মেলে।
উৎপাদন এলাকায় কলা সাধারণত কাঁদি হিসেবে বিক্রি হয় (কাঁদি মানে গাছ থেকে কাটা কলার পুরো থোকা), ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে। দশমাইলে চাষিরা সাধারণত ভ্যানে কলা এনে পাইকারের সঙ্গে দরদাম করে সরাসরি বিক্রি করেন। ঢাকার কিছু আড়তে কাঁচা কলা রেখে অর্ডার এলে পাকানো হয়; স্বাভাবিকভাবে পাকতে সাধারণত ৪ থেকে ৬ দিন লাগে।
ফল পাকানো নিয়ে আইন যা বলে
২০১৮ সালে প্রকাশিত আইন বিষয়ক একটি লেখা অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩ ধারায় খাবারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। ফল পাকানোর কোনো উপাদান ব্যবহার করা যায় কেবল নিয়মের মধ্যে থেকে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে ঢাকার কয়েকটি আড়তে রাসায়নিক দিয়ে কয়েক ঘণ্টায় কাঁচা কলা পাকানোর কথা এসেছে, আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাদামতলী, কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়েছে; যাত্রাবাড়ীর একটি ফলের বাজারে জরিমানাও হয়েছে। আমের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের মে মাসে নওগাঁর জেলা প্রশাসক জানান আমে রাসায়নিক মেশানো যাবে না, আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাসায়নিক মেশানো গোবিন্দভোগ আম নষ্ট করেছে। এমন মাল কিনলে আপনার চালানও জব্দের ঝুঁকিতে পড়ে।
দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন, অন্য জেলায় পাঠানো
ফল পচনশীল, তাই কেনার আগে দেখে নেওয়া আর পরিবহন আগে ঠিক করা দুটোই জরুরি। দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:
- লটের ওপরের নয়, মাঝখানের একটি কার্টন বা ক্রেট খুলে দেখুন: থেঁতলানো, পচা, ছত্রাক বা পোকা আছে কি না।
- আমদানি ফলের কার্টনে উৎস দেশ লেখা আছে কি না, আর ফল ঠান্ডা ও শুকনো অবস্থায় রাখা হয়েছে কি না।
- কলার কাঁদি কতটা কাঁচা, আর আপনার কাছে পৌঁছাতে কত দিন লাগবে, সেই হিসাবে কতটা পাকা মাল নেবেন।
- ওজন সামনে মেপে দর, জাত, পরিমাণ ও তারিখ লেখা মেমো নিন।
- অন্য জেলায় পাঠাতে ট্রাক না কুরিয়ার, ভাড়া কে দেবে আর পথে ফল নষ্ট হলে দায় কার, কেনার সময়ই ঠিক করুন।
বাদামতলী না গিয়েও ফল পাইকারি কিনুন
কোন ফল, কোন জাত, কতটা, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, ফল দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। ভোরে আড়তে গিয়ে দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা (পণ্য, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা, কবের মধ্যে লাগবে) পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফলের পাইকারি বাজার কোথায়?
ঢাকায় পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট, বুড়িগঙ্গার তীরে। এখানে আমদানি করা মাল্টা, আপেল, কমলা, আঙুরের সঙ্গে দেশি মৌসুমি ফলও মেলে।
কলার পাইকারি বাজার কোথায়?
২০২৬ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় কলার আড়ত আছে বাদামতলী, কারওয়ান বাজার, তেজতুরি বাজার, যাত্রাবাড়ী ও টঙ্গীতে। উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুরের কাহারোলের দশমাইল বাজার কাঁচা কলার বড় হাট হিসেবে পরিচিত।
বাদামতলী ফলের বাজার কখন খোলে, কবে বন্ধ?
২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেচাকেনা শুরু হয় ভোরে আর চলে দুপুরের পর পর্যন্ত। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি; যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
পাইকারিতে ফল কী হিসেবে বিক্রি হয়?
বাদামতলীতে আমদানি ফল সাধারণত কার্টন বা ক্রেটে, আম ক্যারেটে। উৎপাদন এলাকায় কলা সাধারণত কাঁদি হিসেবে বিক্রি হয়।
ফলের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম ফল, জাত, আকার, মান, মৌসুম আর পরিমাণে বদলায়; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল বিক্রি কি বৈধ?
না। খাবারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিষিদ্ধ, আর পাকানোর কোনো উপাদান ব্যবহার করা যায় কেবল নিয়মের মধ্যে থেকে।
অনলাইনে ফল পাইকারি অর্ডার করা যায়?
যায়। Roptan-এ ফল, জাত, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে লিখে চাহিদা পাঠান; Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, দেখে নিয়ে আপনার ঠিকানায় পাঠায়।