Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

আমের পাইকারি বাজার

আমের পাইকারি কেনাবেচা হয় দুই জায়গায়: উৎপাদনের জেলার হাটে, যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে, আর ঢাকায় পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের ফলের আড়তে। কোন আম কবে বাজারে আসবে, তা রাজশাহী ও নওগাঁর মতো জেলায় প্রতি বছর জেলা প্রশাসন জাত ধরে আম পাড়ার তারিখ ঘোষণা করে ঠিক করে দেয়। এই পাতায় দাম নেই; আছে কোথায় কিনবেন, কীভাবে কেনা হয় আর কী দেখে কিনবেন।

জেলার হাট
কানসাট, শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের পথে
ঢাকায় পাইকারি
বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের ফলের আড়ত, পুরান ঢাকা
ঢাকার আড়তে বিক্রি
ক্যারেটে, প্রতি ক্যারেট প্রায় ২২ থেকে ২৩ কেজি (২০২৫ সালের খবর)
কোন আম আগে, কোনটা পরে
আগে গুটি ও গোপালভোগ, শেষে আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌড়মতি; পাড়ার তারিখ জেলা প্রশাসন ঘোষণা করে

আমের পাইকারি বাজার কোথায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট জেলার বড় আমের বাজার হিসেবে পরিচিত; ২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের খবরেও কানসাটকে এভাবেই বলা হয়েছে। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাজারটি জেলা সদর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের পথে। এখানে আম সাধারণত মণ হিসেবে পাইকারি বিক্রি হয়, আর ২০২২ সালের ওই প্রতিবেদনে আম কাঠের ঝুড়ি বা প্লাস্টিকের ক্রেটে তোলার কথা আছে।

নওগাঁর সাপাহারেও মৌসুমে আমের বড় হাট বসে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের এক খবর অনুযায়ী হাটটি সাধারণত সাপাহার-নজিপুর সড়কের দুই পাশে জিরো পয়েন্ট থেকে দিবর দিঘির মোড় পর্যন্ত বসে।

ঢাকায় আমের পাইকারি চলে পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের ফলের আড়তে (আড়ত মানে পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর)। ২০২৫ সালের মে মাসের খবর অনুযায়ী এখানে আম ক্যারেটে বিক্রি হয়, প্রতি ক্যারেটে প্রায় ২২ থেকে ২৩ কেজি, আর সকাল থেকেই আড়ত জমে ওঠে।

কোন আম কখন বাজারে আসে

অপরিপক্ব আম যেন বাজারে না আসে, সেজন্য রাজশাহী ও নওগাঁর মতো জেলায় জেলা প্রশাসন প্রতি বছর জাত ধরে আম পাড়ার তারিখ ঘোষণা করে। তাই একই জাত এক জেলায় আগে, অন্য জেলায় পরে আসতে পারে, আর তারিখ বছর বছর বদলায়। খবর অনুযায়ী বাজারে আমের ক্রম মোটামুটি এমন:

  • শুরুতে: গুটি বা স্থানীয় আম আর গোপালভোগ। ২০২৬ সালের মে মাসের খবরে ঢাকায় সবার আগে এসেছিল সাতক্ষীরার গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ।
  • তারপর: হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত, এরপর ল্যাংড়া।
  • এরপর: আম্রপালি ও ফজলি। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সাতক্ষীরার পরে আসে; ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝির খবরে বলা হয়েছিল, তখনো এসব জেলার আম ঢাকায় নামেনি।
  • শেষে: আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌড়মতি। ২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের খবরে কানসাটে আশ্বিনা, বারি-৪, গৌড়মতি, কাটিমন ও বানানা ম্যাংগোর মতো দেরির ও বারোমাসি জাত বিক্রির কথা ছিল।

পাইকারিতে আম কীভাবে কেনা হয়

উৎপাদনের জেলায় দর সাধারণত বলা হয় মণ ধরে, ঢাকার আড়তে ক্যারেট ধরে, আর খুচরায় কেজিতে। বেচাকেনা সাধারণত আড়তদারের মাধ্যমে হয়, আর আড়তদারের কমিশন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে: ২০২৩ সালে সাপাহারের চাষিরা মণপ্রতি কমিশন কাটার অভিযোগ করেছিলেন। তাই কেনার আগে জেনে নিন মণ কত কেজিতে ধরা হচ্ছে, ক্যারেটে কত কেজি, আর কমিশন বা অন্য খরচ কে দেবে।

দাম সাধারণত ঠিক হয় জাত, আকার, মান, মৌসুমের কোন সময়ে কিনছেন আর কতটা কিনছেন, তা দিয়ে। মৌসুমের শুরুর আর শেষের আমের দর এক থাকে না, তাই গত বছরের দর দেখে বাজেট করবেন না।

২০২৫ সালের মে মাসের খবর অনুযায়ী ঢাকার আড়ত থেকে আম নদীপথে লঞ্চে হাতিয়া, বরিশালসহ নানা এলাকায় যায়। অন্য জেলায় পাঠাতে ট্রাক, লঞ্চ না কুরিয়ার, ভাড়া কে দেবে আর পথে আম থেঁতলে বা পচে গেলে দায় কার, কেনার সময়ই ঠিক করুন।

আমের হাট ও আড়ত কবে খোলা, কবে বন্ধ

কানসাট, সাপাহার বা বাদামতলীর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। আমের হাট মৌসুমি, তাই বছরের বাকি সময়ে বেচাকেনা কম থাকে কি না, তাও আগে জেনে নিন।

দোকান খোলার সরকারি নিয়মও মাথায় রাখুন: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়, তবে খাবারের দোকান এই নিয়মের বাইরে। ভোর থেকে চলা ফলের আড়ত এই ছাড় পায় কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়, আর ২০২৬ সালে এই সময়সীমা কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাসায়নিক নিয়ে নিয়ম, আর দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন

আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতে রাসায়নিক মেশানো যাবে না: ২০২৫ সালের মে মাসে নওগাঁর জেলা প্রশাসন এ কথা জানিয়েছে, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে রাসায়নিকে পাকানো আম বাজারে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর ২০২৬ সালের মে মাসে রাজশাহীতে রাসায়নিকমুক্ত ও পরিপক্ব আম বাজারে আনতে প্রশাসনের নজরদারির কথা বলা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত আইন বিষয়ক একটি লেখা অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩ ধারায় খাবারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন নিষিদ্ধ; কোনো পাকানোর উপাদান ব্যবহার করা যায় কেবল নিয়মের মধ্যে থেকে।

২০২৬ সালের এপ্রিলের খবর অনুযায়ী সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঢাকায় পাঠানোর পথে থাকা রাসায়নিক মেশানো অপরিপক্ব গোবিন্দভোগ আম জব্দ করে নষ্ট করেছে। এমন চালান কিনলে পুরো মাল জব্দের ঝুঁকিতে পড়ে। দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:

  • জাতটি ঠিক কি না, আর আপনার জেলায় সেই জাত পাড়ার ঘোষিত সময় হয়েছে কি না।
  • ক্যারেটের ওপর থেকে নয়, মাঝখান থেকে কয়েকটি আম তুলে দেখুন: থেঁতলানো, দাগ, পচা বা পোকা আছে কি না।
  • একটি আম কেটে ভেতরের পাক ও স্বাদ দেখে নিন।
  • ওজন সামনে মেপে নিন; মণ বা ক্যারেট কত কেজিতে ধরা হলো, তা জাত, পরিমাণ ও তারিখসহ মেমোতে লিখিয়ে নিন।
  • দূরে পাঠালে পথের সময় হিসাব করে ঠিক করুন কতটা পাকা আম নেবেন।

হাটে না গিয়েও আম পাইকারি কিনুন

কোন জাতের আম, কতটা, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, আম দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। ভোরে হাটে গিয়ে দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা (পণ্য, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা, কবের মধ্যে লাগবে) পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

আমের পাইকারি বাজার কোথায়?

উৎপাদনের জেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কানসাট, আর মৌসুমে নওগাঁর সাপাহারেও আমের হাট বসে। ঢাকায় পাইকারি চলে পুরান ঢাকার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের ফলের আড়তে।

রাজশাহীর আম কবে বাজারে আসে?

রাজশাহী জেলা প্রশাসন প্রতি বছর জাত ধরে আম পাড়ার তারিখ ঘোষণা করে। ২০২৬ সালের ঘোষণায় ছিল: গুটি ১৫ মে, গোপালভোগ ২২ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন, আশ্বিনা ও বারি-৪ ৫ জুলাই, গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে। তারিখ বছর বছর বদলায়, তাই মৌসুমের শুরুতে নতুন ঘোষণা দেখে নিন।

আমের পাইকারি দাম কত?

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম জাত, আকার, মান, মৌসুমের সময় আর পরিমাণে বদলায়; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।

ঢাকায় আম কি মণে না ক্যারেটে কেনা হয়?

২০২৫ সালের খবর অনুযায়ী বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটে আম ক্যারেটে বিক্রি হয়, প্রতি ক্যারেটে প্রায় ২২ থেকে ২৩ কেজি। উৎপাদনের জেলার হাটে দর সাধারণত মণ ধরে বলা হয়।

কানসাট আমের বাজার কবে বন্ধ থাকে?

কানসাট বা অন্য আমের হাটের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম বিক্রি কি বৈধ?

না। জেলা প্রশাসনগুলো জানিয়েছে আম পাকানো বা বাজারজাতে রাসায়নিক মেশানো যাবে না, আর খাবারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন নিরাপদ খাদ্য আইনে নিষিদ্ধ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এমন আম জব্দ করে নষ্ট করেছে।

অনলাইনে আম পাইকারি অর্ডার করা যায়?

যায়। Roptan-এ জাত, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে লিখে চাহিদা পাঠান; Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, দেখে নিয়ে আপনার ঠিকানায় পাঠায়।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।