পাইকারি পণ্য
খেজুরের পাইকারি বাজার
২০২৬ সালের খবর অনুযায়ী ঢাকায় খেজুরের পাইকারি কেনাবেচা হয় পুরান ঢাকার বাদামতলীতে, বুড়িগঙ্গার তীরের ফলের আড়তে (আড়ত মানে পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর), আর চট্টগ্রামে সাধারণত স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে। এই পাতায় দাম নেই, কারণ জাত, আকার, উৎস দেশ, মৌসুম আর আমদানি খরচে দাম বছর বছর বদলায়; তার বদলে আছে দাম কীসে ঠিক হয় আর কী দেখে কিনবেন।
- ঢাকায় পাইকারি
- বাদামতলী, পুরান ঢাকা, বুড়িগঙ্গার তীরে (২০২৬ সালের খবর)
- পাইকারি প্যাকিং
- কার্টন সাধারণত ৫ বা ১০ কেজির, কখনো ১ কেজির; জাহিদি বস্তাতেও (২০২৬)
- কোথা থেকে আসে
- বেশির ভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে, বাকিটা আফ্রিকা ও অন্য দেশ থেকে (২০২৫ সালের আমদানি)
- চাহিদা বেশি
- রমজানে, তখন চাহিদা সাধারণ সময়ের কয়েক গুণ
খেজুরের পাইকারি বাজার কোথায়
বাদামতলী বুড়িগঙ্গার তীরে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছাড়িয়ে আহসান মঞ্জিলের দিকে। সদরঘাট ও ওয়াইজঘাটের আড়ত মিলিয়ে একে সদরঘাট-বাদামতলী ফলের এলাকাও বলা হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের খবর অনুযায়ী আমদানিকারকদের বেশির ভাগ আড়ত এখানেই, আর রাজধানীর খুচরা বিক্রেতারাও সাধারণত এখান থেকে খেজুর আনেন। আড়তগুলো অন্যত্র সরানোর একটি পরিকল্পনার খবর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এসেছিল; ২০২৬ সালের মার্চের খবরেও আড়ত বাদামতলীতেই আছে।
এখানে কাজ সাধারণত শুরু হয় ভোররাত থেকে; কিছু আড়তে সরাসরি পাইকারি দরে বিক্রি হয়, কোথাও নিলামে, মানে ডাকের মাধ্যমে। ক্রেতারা সাধারণত কয়েকটি দোকানে দর ও মান মিলিয়ে তারপর কেনেন।
চট্টগ্রামে স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে সাধারণত পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই খেজুর কেনা যায়, আর আমদানি করা খেজুর সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে পাইকারি বাজারে ছড়ায়।
বাদামতলী কবে বন্ধ, কখন খোলা
বাদামতলী বা ফলমন্ডির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। রমজানের মৌসুমে (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি) এক আড়তের ব্যবস্থাপক জানিয়েছিলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে; সাধারণ মাসের সময়সূচি কোনো সূত্রে পাইনি। খোলার সময় নিয়ে সরকারি নিয়ম হলো: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে। ভোর থেকে চলা ফলের আড়ত খাবারের দোকান হিসেবে এই ছাড় পায় কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়, আর ২০২৬ সালে এই সময়সীমা কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
খেজুরের জাত, আর কোনটা কোথা থেকে আসে
বাজারে অনেক জাতের খেজুর মেলে, নামের বানানও দোকানভেদে আলাদা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার বিক্রেতারা জানান, বেশি বিক্রি হয় দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজওয়া; আছে মেডজুল, খুরমা, আম্বারও। ইফতার মাহফিলের জন্য সাধারণত জাহিদি ও বরই চলে।
খবরে ও বিক্রেতাদের কথায়, আজওয়া আসে সৌদি আরবের মদিনা থেকে, মরিয়ম সৌদি আরব, ইরান, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মিসর থেকে, আর জাহিদি সাধারণত ইরাক থেকে দুবাই হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।
‘বড়ই খেজুর’ বাজারে সাধারণত ‘বরই খেজুর’ নামে চলে: খেজুরেরই একটি জাত, কুল নয়, আর সাধারণত তুলনামূলক কম দামের, বেশি বিক্রি হওয়া জাতগুলোর একটি। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে একে আমিরাতের ‘লুলু’ খেজুর বলা হয়েছিল; পরের সূত্রে তা মেলাতে পারিনি, তাই জাত ও উৎস বিক্রেতার কাছে জেনে নিন।
খেজুরের পাইকারি দাম কীসে ঠিক হয়
দাম বছর ও মৌসুমভেদে বদলায়, তাই ২০২৫ বা আগের বছরের দরের তালিকা দেখে বাজেট করবেন না। কোনো কোনো বছর রমজানের আগে সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, যেমন ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, আর রমজান ২০২৬-এর জন্য ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে, যা ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরের হার নিশ্চিত হতে পারিনি। দর সাধারণত ঠিক হয় এসব দিয়ে:
- জাত: জাতভেদে দাম আলাদা; জাহিদি, দাবাস ও বরই সাধারণত তুলনামূলক কম দামের।
- আকার, মান ও উৎস: বাদামতলীর এক ব্যবসায়ীর কথায় (২০২৬), দামের পার্থক্য আসে মান, আকার আর আমদানির উৎস থেকে; যেমন মেডজুল বড় (জাম্বো), মাঝারি ও ছোট আকারে আলাদা দামে মেলে।
- প্যাকিং: দর সাধারণত কার্টন বা কেজি ধরে বলা হয়, তাই কার্টনে কত কেজি মিলিয়ে নিন।
- মৌসুম: রমজানে চাহিদা সাধারণ সময়ের কয়েক গুণ হয়ে যায়।
- আমদানি খরচ: শুল্ক-কর, ডলারের দর আর ঋণপত্র (এলসি, মানে ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানির দাম মেটানোর ব্যবস্থা); ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমদানিকারকেরা এগুলোকেই দাম বাড়ার কারণ বলেছিলেন।
- সরবরাহে বিঘ্ন: ২০২৬ সালের রমজানের আগে খেজুরের একটি বড় চালান সাগরে ডোবা আর চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতির খবর এসেছিল।
পাইকারিতে কীভাবে কেনা হয়, দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন
২০২৬ সালের খবর অনুযায়ী বাদামতলীতে কার্টন সাধারণত ৫ বা ১০ কেজির, কখনো ১ কেজির; ৩ কেজির প্যাকেটও আছে, আর জাহিদি বস্তাতেও বিক্রি হয়। ন্যূনতম কত কার্টন, তার নির্দিষ্ট নিয়ম পাইনি; বিক্রেতার কাছে জেনে নিন।
২০২৬ সালের রমজানে বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীদের সমিতিগুলো বিক্রেতাদের নির্দেশনা দিয়েছিল (আইন নয়): মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি নিষেধ, মাল মেঝেতে নয়, তক্তা বা চাটাইয়ে রাখা, আর পরীক্ষা করা পাল্লা, দামের তালিকা ও বিক্রির মেমো রাখা। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি নিষিদ্ধ, আর প্যাকেটে উৎপাদন, মোড়কীকরণ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আর উৎসের তথ্য থাকার কথা। দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:
- কার্টনে মোড়কীকরণ ও মেয়াদের তারিখ আর উৎস দেশ লেখা আছে কিনা।
- লটের মাঝখানের একটি কার্টন খুলে টক বা গাঁজানো গন্ধ, ছত্রাক, পোকা বা পোকায় কাটা দাগ আছে কিনা।
- জাতের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভেজা বা চটচটে কিনা; সাধারণভাবে বলা হয়, আর্দ্রতা বেশি হলে খেজুরে গাঁজন হয়ে টক হয়ে যায়।
- গায়ে চিনি জমে সাদা দানা দেখা দেওয়াও মানের ত্রুটি হিসেবে ধরা হয়।
- ওজন সামনে মেপে দর, জাত, পরিমাণ ও তারিখ লেখা মেমো বা রশিদ নিন।
খেজুর রাখা, কাঁচা খেজুর আর অন্য জেলায় পাঠানো
কেনা খেজুর ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন। সাধারণভাবে বলা হয়, ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় পোকার আক্রমণ ঠেকানো যায়; রসুন, পেঁয়াজ বা আলুর মতো কড়া গন্ধের জিনিসের সঙ্গে খেজুর রাখা ঠিক নয়; আর মেডজুল বা বারহির মতো নরম খেজুর আধা-নরম জাতের চেয়ে কম দিন ভালো থাকে।
কাঁচা হলুদ খেজুরের হিসাব আলাদা: ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ব্যবসায়ীরা একে বারহি বলে বিক্রি করছিলেন; মৌসুম মূলত জুলাই ও আগস্ট, আর পাইকারিতে বিক্রি হয় সাধারণত ১০ কেজির ক্রেটে। আমদানিকারকদের ভাষ্য, এর প্রায় সবই ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে আসে, যদিও খুচরায় কেউ কেউ অন্য দেশের বলে বিক্রি করছিলেন। গাছ থেকে পাড়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাজারে না পৌঁছালে এটি সাধারণত নরম হয়ে দাম হারায়, তাই দূরে নিলে দ্রুত পরিবহন ঠিক করে তবেই কিনুন।
অন্য জেলায় পাঠাতে ট্রাক না কুরিয়ার, খরচ কে দেবে আর পথে কার্টন থেঁতলে বা ভিজে গেলে দায় কার, কেনার সময়ই ঠিক করুন।
বাদামতলী না গিয়েও খেজুর পাইকারি কিনুন
কোন জাত ও আকার, কেমন কার্টনে কতটা, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। ভোররাতে আড়তে গিয়ে দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
খেজুরের পাইকারি বাজার কোথায়?
ঢাকায় পুরান ঢাকার বাদামতলী, বুড়িগঙ্গার তীরের ফলের আড়ত এলাকা (২০২৬ সালের খবর অনুযায়ী)। চট্টগ্রামে সাধারণত স্টেশন রোডের ফলমন্ডি, যেখানে পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই কেনা যায়।
খেজুরের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম সাধারণত জাত, আকার, উৎস দেশ, প্যাকিং, মৌসুম আর আমদানি খরচে ঠিক হয়; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
খেজুরের পাইকারি দাম ২০২৫ সালের তালিকা দেখে কি এখন কেনা যায়?
পুরোনো দরে ভরসা না করাই ভালো: শুল্ক, ডলারের দর, সরবরাহ আর মৌসুম বদলালে দামও বদলায়। কেনার দিনের দর কয়েক দোকানে বা কোটেশনে মিলিয়ে নিন।
বড়ই খেজুর কী, পাইকারি দাম কেমন?
বাজারে নামটি সাধারণত ‘বরই খেজুর’: খেজুরের একটি জাত, কুল নয়। জাহিদি ও দাবাসের মতো এটিও সাধারণত তুলনামূলক কম দামের জাত; সঠিক দর আসে কোটেশনে।
রমজানের জন্য খেজুর কবে কিনব?
আগেভাগে। ২০২৬ সালে বাদামতলীর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দুই থেকে তিন মাস আগেই দোকান বা জায়গা বুক করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে পরের রমজানের জন্য আমদানির এলসি খোলা শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরেই।
বাদামতলী কবে বন্ধ থাকে?
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি; ২০২৬ সালের রমজানে সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনার কথা জানিয়েছিলেন এক আড়তের ব্যবস্থাপক। ফলের আড়ত ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের দোকান খোলার সময়সীমার আওতায় পড়ে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।