Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

জামদানি শাড়ির পাইকারি বাজার

জামদানি শাড়ির পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত জায়গা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, তারাবের নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী। ২০২৫ সালের মার্চের খবর অনুযায়ী এখানে প্রতি শুক্রবার ভোরে জামদানির হাট বসে, আর দেশের নানা জায়গা থেকে পাইকাররা আসেন। কেনার আগে জেনে নিন শাড়িটি সুতি, হাফ সিল্ক না ফুল সিল্ক, কত কাউন্টের, আর হাতে বোনা না মেশিনে।

পাইকারি হাট
নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী, তারাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
হাটের দিন
প্রতি শুক্রবার ভোরে (২০২৫ সালের মার্চের খবর)
যেখানে বোনা হয়
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ, শীতলক্ষ্যার তীরে
সুতার ধরন
সুতি, হাফ সিল্ক (সুতি ও রেশম মেশানো), ফুল সিল্ক
স্বীকৃতি
ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় (২০১৩), বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্য (২০১৬)

জামদানির পাইকারি হাট কোথায়, কবে বসে

নোয়াপাড়ার জামদানি পল্লী হলো বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র। এটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে; ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর সেতুর প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তরে।

২০২৫ সালের মার্চের খবর অনুযায়ী পল্লীর ভেতরে প্রতি শুক্রবার ভোর থেকে জামদানির হাট বসে; ২০২৩ সালের খবরেও এটি শুক্রবার সকালের হাট। পাইকারদের সঙ্গে খুচরা ক্রেতারাও আসেন। হাট সাধারণত ফজরের নামাজের পর শুরু হয় আর সকাল ৮টা নাগাদ শেষ হয়ে যায়; ২০২৫ সালের মার্চের ওই খবরে ক্রেতা কম থাকায় সেদিন ৮টার আগেই হাট ভেঙে গিয়েছিল। তাই ভোরেই পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন, আর যাওয়ার আগে পল্লীর পরিচিত কোনো তাঁতি বা দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

কোথায় বোনা হয়, ঢাকায় কোথায় মেলে

জামদানি বোনা হয় মূলত শীতলক্ষ্যার তীরে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ উপজেলায়। রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি ওয়েবসাইটে রূপসী, কাজীপাড়া ও খাদুনের মতো গ্রামের নাম জামদানি তৈরির জায়গা হিসেবে আছে।

ঢাকায় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের বেনারসি পল্লী আর নিউমার্কেট-সংলগ্ন ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে জামদানি বিক্রি হয়, তবে এগুলো দোকানের এলাকা, তাঁতিদের হাট নয়। বিক্রয়কর্মীদের কথায়, এসব দোকানের মালিকেরা সাধারণত তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি, মহাজনের (তাঁতি আর দোকানের মাঝখানের ব্যবসায়ী) মাধ্যমে, অথবা হাট থেকে পাইকারি শাড়ি আনেন। দোকান থেকে কিনলে জিজ্ঞেস করুন শাড়িটি কোথা থেকে আনা। এসব দোকানের খোলার সময় এখন সরকারি নিয়মে বাঁধা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এই নিয়মের বাইরে, শাড়ির দোকান নয়। ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে, আর নিয়মটি দোকানের, তাঁতিদের ভোরের হাটের নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

জামদানির ধরন, কাউন্ট ও পাইকারি দাম

সুতা অনুযায়ী জামদানি মূলত তিন ধরনের: সুতি বা ফুল কটন, হাফ সিল্ক (সুতি ও রেশম মেশানো) আর ফুল সিল্ক। ঐতিহ্যগতভাবে জামদানি মিহি সুতি কাপড়। এখন শাড়ির পাশাপাশি জামদানির থ্রি-পিস, ওয়ান পিস, পাঞ্জাবি, টুপি, শিশুদের পোশাক, পর্দা আর ওয়াল ম্যাটও তৈরি হয়।

মান ও দামের বড় মাপকাঠি সুতার কাউন্ট, মানে সুতা কতটা মিহি। কাউন্ট যত বেশি, সুতা তত চিকন, শাড়ি তত হালকা, দামও তত বেশি। পল্লীতে কোন কাউন্ট থেকে কোন কাউন্ট পর্যন্ত শাড়ি বোনা হয়, তা নিয়ে সূত্রগুলোর হিসাব আলাদা, তাই যে শাড়ির দর নিচ্ছেন, তার কাউন্ট বিক্রেতার কাছে জেনে লিখে রাখুন।

পাইকারি দাম সাধারণত কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে ঠিক হয়: সুতার ধরন, কাউন্ট, নকশার কাজ (নকশা ও কাউন্টভেদে একটি শাড়ি বুনতে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস লাগে), হাতে বোনা না মেশিনে, আর একসঙ্গে কত পিস নিচ্ছেন। মেশিনে বোনা শাড়ির দাম সাধারণত কম। ন্যূনতম কত পিস নিতে হবে, তা বিক্রেতাই ঠিক করেন; দর নেওয়ার সময় আগে জেনে নিন।

হাতে বোনা জামদানি না মেশিনের শাড়ি: চেনার উপায়

বাজারে মেশিনে বোনা জামদানি-নকশার শাড়িও জামদানি নামে বিক্রি হয়, অনেক সময় নাইলন বা পলিয়েস্টার সুতায় আর কম দামে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বেনারসি পল্লীর কয়েকটি দোকানে আসল তাঁতের জামদানির পাশাপাশি মেশিনে বোনা শাড়িও দেখা গেছে, আর ভারত থেকে আসা নকল জামদানিকেও ২০২৪ সালের আরেক লেখায় একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা বলা হয়েছে। মেশিনের শাড়ি আলাদা একটি পণ্য; সমস্যা হয় যখন তা হাতে বোনা বলে বিক্রি হয়।

২০১৩ সালে ইউনেস্কো ‘জামদানি বয়নের ঐতিহ্যবাহী শিল্প’-কে মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় যুক্ত করে, আর ২০১৬ সালে জামদানি বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায়। জিআই মানে পণ্যের পরিচয় একটি নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে জড়িত বলে সরকারি স্বীকৃতি। তবে এসব স্বীকৃতি বয়নের ঐতিহ্যের; কোনো একটি শাড়ি হাতে বোনা কিনা, তা এতে প্রমাণ হয় না। তাই প্রতিটি লট নিজে যাচাই করুন:

  • শাড়ি উল্টে দেখুন: হাতে বোনা জামদানির উল্টো পিঠও পরিপাটি থাকে, মেশিনে বোনা শাড়ির উল্টো পিঠে সাধারণত কাটা সুতা দেখা যায়।
  • শুধু সুতার ধরন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না; বিক্রেতার কাছে সরাসরি জেনে নিন শাড়িটি তাঁতে বোনা না মেশিনে, আর মেমো বা চালানে তা লিখিয়ে নিন।
  • কাউন্ট আর সুতার ধরন লিখে রাখুন, যাতে পরে আসা মাল সেই বর্ণনার সঙ্গে মেলানো যায়।
  • বড় অর্ডারের আগে একটি নমুনা শাড়ি নিন, পরে আসা প্রতিটি শাড়ির রং, নকশা আর দৈর্ঘ্য সেই নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

অর্ডার, সময় আর অন্য জেলায় ডেলিভারি

জামদানি রাতারাতি তৈরি হয় না, তাই বড় বা নির্দিষ্ট নকশার অর্ডার আগে থেকে দিতে হয়। তাঁতিরা ক্রেতার চাহিদামতো নকশায়ও শাড়ি বোনেন, আর খুব মিহি, বেশি কাউন্টের শাড়ি সাধারণত বিশেষ অর্ডারেই তৈরি হয়। ঈদ ও পূজার আগে সাধারণত চাহিদা বাড়ে, তাই উৎসবের জন্য লাগলে হাতে সময় রেখে অর্ডার দিন।

পল্লীর তাঁতি ও দোকান মালিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ আছে, আর ২০২৫ সালে তাঁতিরা জানিয়েছেন, সরাসরি ক্রেতার চেয়ে অনলাইনে শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চের এক খবর অনুযায়ী এভাবে অর্ডার দিলে সাধারণত কিছু অগ্রিম দিতে হয়, শাড়ি হাতে পেয়ে বাকিটা পরিশোধ করতে হয়, আর শাড়ি কুরিয়ারে দেশের নানা জায়গায় পাঠানো হয়।

শর্ত বিক্রেতাভেদে আলাদা হতে পারে, তাই অগ্রিম, মাল না মিললে কী হবে, কুরিয়ার খরচ আর পথে ক্ষতির দায় লিখিতভাবে ঠিক করে নিন; শাড়ি যেন পানি ও ময়লা থেকে বাঁচিয়ে প্যাক করা হয়, সেটাও বলে দিন।

নোয়াপাড়ায় না গিয়েও জামদানি পাইকারি কিনুন

শুক্রবার ভোরে হাটে পৌঁছানো সবার পক্ষে সহজ নয়। Roptan-কে জানান কোন ধরনের জামদানি (সুতি, হাফ সিল্ক বা ফুল সিল্ক), হাতে বোনা লাগবে কিনা, রং ও নকশা, কত পিস, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবের মধ্যে লাগবে। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে হাটে গিয়ে দরদাম করতে বা একা শাড়ি যাচাই করতে হয় না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। জামদানি বুনতে সময় লাগে, তাই উৎসবের অর্ডার আগেভাগে জানান। নিজে সরবরাহকারীর সঙ্গে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা দিন; সদস্য সরবরাহকারীরা কোট করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

জামদানি শাড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

পরিচিত জায়গা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, তারাবের নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চের খবর অনুযায়ী প্রতি শুক্রবার ভোরে হাট বসে। জামদানি মূলত বোনা হয় রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে।

নোয়াপাড়ার জামদানি হাট কখন বসে?

প্রতি শুক্রবার ভোরে (২০২৫ সালের মার্চের খবর)। হাট সাধারণত ফজরের পর শুরু হয় আর সকাল ৮টা নাগাদ শেষ হয়ে যায়; ক্রেতা কম থাকলে আরও আগেই ভেঙে যায়। যাওয়ার আগে পল্লীর পরিচিত কোনো তাঁতি বা দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

আসল জামদানি চিনব কীভাবে?

শাড়ি উল্টে দেখুন: হাতে বোনা জামদানির উল্টো পিঠও পরিপাটি থাকে, মেশিনে বোনা শাড়িতে সাধারণত কাটা সুতা দেখা যায়। বিক্রেতার কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন শাড়িটি তাঁতে বোনা কিনা আর কত কাউন্টের।

জামদানি শাড়ি কত ধরনের?

সুতা অনুযায়ী মূলত তিন ধরনের: সুতি, হাফ সিল্ক (সুতি ও রেশম মেশানো) আর ফুল সিল্ক। কাউন্ট যত বেশি, সুতা তত মিহি আর দামও তত বেশি।

অর্ডার দিলে জামদানি পেতে কত দিন লাগে?

নকশা ও কাউন্টভেদে একটি শাড়ি বুনতে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস লাগে, তাই নির্দিষ্ট দিন বলা যায় না। ঈদ বা পূজার জন্য লাগলে আগে থেকে অর্ডার দিন; Roptan-এর কোটেশনে ডেলিভারির তারিখ জানানো হয়।

হাটে না গিয়ে কি জামদানি পাইকারি কেনা যায়?

হ্যাঁ। ধরন, পিস সংখ্যা, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, পণ্য দেখে, আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।