Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

রাজশাহী সিল্ক শাড়ির পাইকারি বাজার

রাজশাহী সিল্কের উৎপাদন আর বেচাকেনা মূলত রাজশাহী শহরের সাপুরা শিল্প এলাকা (বিসিক এলাকা) ঘিরে, তাই পাইকারি সিল্ক শাড়ির খোঁজ শুরু করার জায়গাও এটাই। কেনার আগে জেনে নিন সিল্ক কোন ধরনের আর সুতা কোথাকার, তারপর নমুনা দেখে মান যাচাই করুন।

উৎপাদন ও ব্যবসার এলাকা
সাপুরা শিল্প এলাকা (বিসিক এলাকা), রাজশাহী শহর
সিল্কের মূল ধরন
তুঁত সিল্ক, এন্ডি বা ইরি সিল্ক, তসর সিল্ক
জিআই স্বীকৃতি
২০২১ সালে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে
দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, সদর দপ্তর রাজশাহীতে

রাজশাহী সিল্ক শাড়ির পাইকারি বাজার কোথায়

রাজশাহী সিল্কের উৎপাদন আর ব্যবসা এখনো সাপুরা শিল্প এলাকা ঘিরেই, তাই পাইকারি কিনতে এখানকার দোকানগুলোতেই খোঁজ নিন। একসময় এখানে অনেক সিল্ক কারখানা ছিল; পরে তার বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়।

খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুরসহ নানা জেলা থেকে ক্রেতারা সাধারণত এখানে কিনতে আসেন। রোজার মাসে ঈদের আগে দোকানগুলো সাধারণত অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে; সাম্প্রতিক এক রোজায় সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলেছে বলে খবরে এসেছে, মাঝে ইফতার ও নামাজের বিরতি দিয়ে।

অন্য সময়ের খোলার সময় আর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাজশাহী সিল্কের ধরন ও পরিচয়

রাজশাহী সিল্ক মূলত তিন ধরনের: তুঁত সিল্ক, এন্ডি বা ইরি সিল্ক, আর তসর সিল্ক। এর মধ্যে তুঁত সিল্ক মিহি ও দামি, তাই একই নকশার শাড়িতেও সুতার ধরন বদলালে দাম অনেকটা বদলে যেতে পারে।

সাপুরার দোকানে সাধারণত কাতানসহ নানা নামের সিল্ক শাড়ি পাওয়া যায়, সঙ্গে মটকা, তসর-কাতান ও সাটিন সিল্কের মতো কাপড়। শাড়ির পাশাপাশি সিল্কের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি আর থ্রি-পিসও সাধারণত মেলে।

এ অঞ্চলের রেশমের খ্যাতি অনেক পুরনো: ত্রয়োদশ শতাব্দীতেই বাংলার রেশম বিদেশে, বিশেষ করে ইতালিতে, পরিচিত ছিল বলে জানা যায়; তখন একে বলা হতো বেঙ্গল সিল্ক বা গঙ্গার রেশম। ২০১৭ সালে আবেদনের পর ২০২১ সালে রাজশাহী সিল্ক বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে সনদ পায়; জিআই মানে পণ্যটির পরিচয় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। দেশের রেশম খাতের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরও রাজশাহীতে।

সুতার উৎস, পাইকারি দাম ও ন্যূনতম অর্ডার

রাজশাহীর তাঁতিরা এখন সাধারণত বেশিরভাগ রেশম সুতা বিদেশ থেকে, মূলত চীন থেকে আনেন; দেশে তৈরি সুতা চাহিদার ছোট একটা অংশই মেটায়। তাই শুধু শাড়ির নাম শুনে নয়, সুতা কী আর কোথাকার, তা জিজ্ঞেস করে নিন।

পাইকারি দাম সাধারণত ঠিক হয় কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে: সুতার ধরন (তুঁত, এন্ডি, তসর, নাকি অন্য সুতার সঙ্গে মেশানো), বুনন ও নকশার কাজ, একসঙ্গে কত পিস নিচ্ছেন, আর কবের মধ্যে লাগবে। শাড়ি সাধারণত পিস ধরে বিক্রি হয়, থান (পুরো রোল) কাপড়ের মতো গজ ধরে নয়।

ন্যূনতম কত পিস নিতে হবে, তা বিক্রেতাই ঠিক করেন; দর নেওয়ার সময় সেটা আগে জেনে নিন। একই ধরনের শাড়ির দর কয়েকটি দোকান থেকে নিয়ে মিলিয়ে দেখুন।

আসল সিল্ক চেনার প্রচলিত উপায়

আসল সিল্ক চেনার কয়েকটি প্রচলিত পরীক্ষা আছে। এগুলো দিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না, তবে সাধারণত নকল বা মেশানো কাপড় আলাদা করতে কাজে দেয়। তাই পাইকারি অর্ডারের আগে বিক্রেতার কাছে নমুনা চেয়ে নিন, আর পরে আসা মাল সেই নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

  • ছুঁয়ে দেখা: আসল সিল্ক সাধারণত নরম, মসৃণ আর হাতে শীতল লাগে; নকল কাপড় শক্ত বা বেশি পিচ্ছিল লাগে।
  • মুচড়ে দেখা: হালকা মুচড়ে ধরলে আসল সিল্কে সাধারণত সামান্য ভাঁজ পড়ে, যা কিছুক্ষণ পরে মিলিয়ে যায়; নকলে ভাঁজ থেকে যায়।
  • সুতা পুড়িয়ে দেখা: নমুনা থেকে একটা সুতা নিয়ে সাবধানে পোড়ালে আসল সিল্ক সাধারণত ধীরে পোড়ে আর চুল পোড়ার মতো গন্ধ দেয়; সিনথেটিক সুতা গলে যায়, গন্ধ হয় প্লাস্টিক পোড়ার মতো।
  • রং যাচাই: এক কোণে ভেজা সাদা কাপড় ঘষে দেখুন রং ওঠে কিনা।
  • মাপ ও লট: একই নকশার সব পিসের দৈর্ঘ্য, রং আর বুনন এক রকম কিনা, ব্লাউজ পিস আছে কিনা মিলিয়ে নিন।

অন্য জেলায় ডেলিভারি ও পেমেন্ট

রাজশাহী থেকে অন্য জেলায় শাড়ি সাধারণত কুরিয়ার বা পরিবহনে পাঠানো হয়। পাঠানোর আগে ঠিক করুন প্যাকিং এমন হবে যাতে পানি বা ময়লা না লাগে, খরচ কে দেবে, আর পথে ক্ষতি হলে দায় কার।

পেমেন্ট নগদে হবে নাকি মোবাইলে, কত অংশ আগে আর কত অংশ মাল পাওয়ার পরে, সেটাও লিখিতভাবে ঠিক করে রাখুন। নমুনা না দেখে বড় অঙ্কের অগ্রিম না দেওয়াই নিরাপদ।

রাজশাহী না গিয়েও সিল্ক শাড়ি পাইকারি কিনুন

কোন ধরনের সিল্ক শাড়ি, কত পিস, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবের মধ্যে লাগবে, এটুকু জানালেই চলবে। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে রাজশাহী গিয়ে দরদাম করতে বা একা মান যাচাই করতে হয় না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ জানানো হয় কোটেশনে।

সাধারণ প্রশ্ন

রাজশাহী সিল্ক শাড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

রাজশাহী শহরের সাপুরা শিল্প এলাকা (বিসিক এলাকা) ঘিরেই রাজশাহী সিল্কের উৎপাদন ও ব্যবসা। পাইকারি শাড়ির খোঁজ তাই সেখান থেকেই শুরু করুন।

রাজশাহী সিল্ক কত ধরনের?

মূলত তিন ধরনের: তুঁত সিল্ক, এন্ডি বা ইরি সিল্ক, আর তসর সিল্ক। এর মধ্যে তুঁত সিল্ক মিহি ও দামি।

আসল রাজশাহী সিল্ক চিনব কীভাবে?

প্রচলিত উপায় হলো ছুঁয়ে দেখা আর নমুনার সুতা পুড়িয়ে দেখা: আসল সিল্ক সাধারণত নরম ও শীতল লাগে, আর পোড়ালে ধীরে পোড়ে ও চুল পোড়ার মতো গন্ধ দেয়। এতে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না, তাই বড় অর্ডারের আগে নমুনা চেয়ে নিন।

রাজশাহী সিল্ক কি জিআই পণ্য?

হ্যাঁ। ২০১৭ সালে আবেদনের পর ২০২১ সালে রাজশাহী সিল্ক বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে সনদ পায়।

পাইকারি কিনতে কমপক্ষে কত পিস নিতে হয়?

ন্যূনতম পরিমাণ বিক্রেতাই ঠিক করেন, তাই দর নেওয়ার সময় আগে জেনে নিন। Roptan-এর কোটেশনে দাম আর ডেলিভারির তারিখের সঙ্গে ন্যূনতম অর্ডারও জানানো হয়।

ঈদের আগে সিল্কের দোকান কতক্ষণ খোলা থাকে?

রোজার মাসে ঈদের আগে রাজশাহীর সিল্কের দোকান সাধারণত অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে; সাম্প্রতিক এক রোজায় সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলেছে বলে খবরে এসেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাজশাহী না গিয়ে কি সিল্ক শাড়ি পাইকারি কেনা যায়?

হ্যাঁ। শাড়ির ধরন, পিস সংখ্যা, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, মান দেখে নিয়ে আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর আসে।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।