Managed sourcing from Bangladesh, for export and for buyers at home
Get it sourced

পাইকারি পণ্য

মসলার পাইকারি বাজার

ঢাকায় মসলার বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার; শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারেও মসলার পাইকারি দোকান আছে। চট্টগ্রামে মসলার পাইকারি কেনাবেচা হয় খাতুনগঞ্জ ও পাশের চাক্তাইয়ে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে গুঁড়া মসলায় ভেজালের দায়ে একাধিক অভিযানে জরিমানা হয়েছে, তাই কোথায় কিনবেন, তার সঙ্গে কী দেখে কিনবেন, সেটাও জেনে রাখুন।

ঢাকায় মসলার পাইকারি
মৌলভীবাজার (পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকা); শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারেও
মৌলভীবাজারের সাপ্তাহিক বন্ধ
সাধারণত শুক্রবার পুরো দিন, শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত (২০২৪ সালের জানুয়ারির তালিকা); ফোন করে নিশ্চিত হোন
চট্টগ্রামে
খাতুনগঞ্জ ও পাশের চাক্তাই
মৌলভীবাজারে যা মেলে
গোটা মসলা, শুকনো ফল ও বাদাম, তেল ও চিনি
পুরোপুরি আমদানিনির্ভর
এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচ

ঢাকায় মসলার পাইকারি বাজার কোথায়

মৌলভীবাজার পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার অংশ; উর্দু রোড থেকে সোয়ারীঘাট পর্যন্ত এই এলাকার ভেতরে ও আশপাশেই আছে বেগমবাজার, মকিম কাটরা আর ছোট ও বড় কাটরা। এটি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা নয়; যাওয়ার পথ চকবাজারের গাইডে দেখে নিন।

এখানে সাদা ও কালো এলাচ, লবঙ্গ, ধনিয়া, স্টার অ্যানিস ও গোলমরিচের মতো গোটা মসলা মেলে, সঙ্গে কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম, আলুবোখারা ও কিশমিশ; বাজারটি তেল ও চিনির জন্যও পরিচিত। ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও ক্রেতারা আসেন, আর ছোট দোকানে অল্প পরিমাণেও কেনা যায়, তাই শুরুতে ছোট অর্ডারে মান যাচাই করে নিতে পারেন।

সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গার তীরের পুরোনো পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ আর গুঁড়া মসলার বেচাকেনা শুরু হয় ভোরের আগেই। কারওয়ান বাজারেও মসলার পাইকারি দোকান আছে, পাশাপাশি খুচরাও।

চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মসলার পাইকারি

চট্টগ্রামে মসলার পাইকারি কেনাবেচা মূলত খাতুনগঞ্জ ও পাশের চাক্তাইয়ে; খাতুনগঞ্জ কর্ণফুলীর সঙ্গে যুক্ত চাক্তাই, রাজাখালী ও বদরশাহ খালের পাশে। ২০২৬ সালের মে মাসের খবরে সেখানে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, জায়ফল, জয়ত্রী ও শুকনো মরিচের প্রচুর মাল ছিল। খাতুনগঞ্জের বাকি পণ্য আর দর জানার উপায় চট্টগ্রামের গাইডে আছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদন বলছে, কিছু ব্যবসায়ী খাতুনগঞ্জ থেকে শহরের অন্য এলাকায় কার্যক্রম সরিয়ে নিয়েছেন, তাই বিক্রেতার বর্তমান ঠিকানা আগে ফোনে জেনে নিন।

২০২৬ সালের মার্চের এক প্রতিবেদনে বগুড়ার রাজাবাজারকে মসলার পাইকারি আড়ত (পাইকারি মাল রাখা ও বেচার ঘর) বলা হয়েছে, যেখান থেকে আমদানি করা মসলা ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে সারা দেশে যায়।

মসলার বাজার কবে বন্ধ, কখন খোলা

ঢাকার দোকানপাটের সাপ্তাহিক বন্ধ এলাকা ধরে ঠিক করা, নিয়মটি ২০১০ সালের। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রকাশিত সেই তালিকায় মৌলভীবাজার, বেগমবাজার ও চকবাজার শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধের দলে। তবে ওই নিয়মে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান বাদ, আর মসলার আড়ত সেই দলে পড়ে কি না তালিকায় বলা নেই; তাই শুক্রবারেও কিছু মসলার পাইকারি দোকান খোলা থাকতে পারে। শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও খাতুনগঞ্জের সাপ্তাহিক বন্ধের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য আমরা পাইনি।

খোলার সময় নিয়ে সরকারি নিয়ম হলো: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে। মসলার আড়ত খাবারের দোকান হিসেবে এই ছাড় পায় কি না, সূত্রে স্পষ্ট নয়, আর ২০২৬ সালে এই সময়সীমা কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

কোন মসলা কোন রূপে: গোটা, গুঁড়া ও মিশ্র

পাইকারিতে মসলা সাধারণত তিন রূপে মেলে: গোটা মসলা, যেমন এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, জায়ফল ও শুকনো মরিচ; গুঁড়া মসলা, যেমন হলুদ ও মরিচের গুঁড়া; আর প্যাকেটের মিশ্র মসলা, যেমন কারি পাউডার বা তেহারির মসলা।

এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচ, এই পাঁচ গরম মসলা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ২০২৬ সালের মে মাসে আমদানিকারকদের ভাষ্য ছিল, বেশির ভাগ মসলা আসে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ছাড়াও ভারত, চীন, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিল থেকে। একই মসলা একাধিক দেশ থেকে আসতে পারে, তাই দর নেওয়ার সময় উৎস দেশও জেনে নিন।

সরকারি কোনো গ্রেড তালিকা আমরা পাইনি; তাই কয়েকজন বিক্রেতার নমুনা পাশাপাশি রেখে আকার, রং, গন্ধ ও পরিচ্ছন্নতা মেলান, আর পুরো মাল নমুনার মতো হওয়ার শর্ত দিন।

পাইকারি দাম কীসে ঠিক হয়, কেনাবেচা কীভাবে চলে

দর সাধারণত কেজি ধরে বলা হয়, আর মাল সাধারণত চলে বস্তায়। ২০২৩ সালের এক খবরে শুকনো মরিচের হাটে মণ হিসেবেও বিক্রির কথা আছে; মণ ওজনের পুরোনো দেশি একক, তাই কেজিতে কত ধরা হচ্ছে মিলিয়ে নিন। ন্যূনতম অর্ডারের নির্দিষ্ট নিয়ম পাইনি, বিক্রেতাই ঠিক করেন।

মসলার ধরন ও মান, উৎস দেশ, আমদানিতে বিঘ্ন আর মৌসুম, সাধারণত এসবের ওপরই দাম ওঠানামা করে। রমজানের আগে বাজার জমে ওঠে, আর কোরবানির ঈদ পেরোনো পর্যন্ত চাঙা থাকে; আবার ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদের আগে চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জে বাড়তি সরবরাহে বেশির ভাগ মসলার দাম কমেছিল।

খাতুনগঞ্জে বেচাকেনার বড় অংশ লিখিত চুক্তি ছাড়াই পারস্পরিক বিশ্বাসে চলে; নিয়মিত ক্রেতারা অনেক সময় ফোনে অর্ডার দেন, আর মাল ট্রান্সপোর্টে (পরিবহন এজেন্সি) তুলে দেওয়া হয়। নতুন ক্রেতা হলে দর, মান, পরিবহন খরচ আর পথে বস্তা ভিজলে দায় কার, লিখে নিন।

ভেজাল এড়াতে দাম মেটানোর আগে যা দেখবেন

গুঁড়া মসলায় ভেজালের খবর বারবার এসেছে: ২০২৬ সালের জুনে ঢাকার ফরাশগঞ্জ ও শ্যামবাজার এলাকার কয়েকটি জায়গা থেকে ভেজাল ও নিম্নমানের হলুদের গুঁড়া জব্দ হয়; বগুড়া ও ভৈরবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে হলুদ ও মরিচের গুঁড়ায় ধানের তুষ, চালের গুঁড়া বা কাপড়ের রং মেশানোর প্রমাণ মেলে; আর ২০২৬ সালে বগুড়া ও চট্টগ্রামের মধ্যম চাক্তাইয়ে জিরায় ক্যারাওয়ে বীজ মেশানোর দায়ে জরিমানা হয়। এগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খবর, পুরো বাজারের নয়।

মান-চিহ্ন দেখেই নিশ্চিন্ত হবেন না: ২০২৬ সালের আগস্টের খবর অনুযায়ী, বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি প্যাকেটজাত মসলা বাজার থেকে নেওয়া নমুনার পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ হয়নি, আর সেগুলো বাজার থেকে তুলে নিতে বলা হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে উৎপাদন, মোড়কীকরণ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আর উৎসের তথ্য থাকার কথা, আর খাদ্য ব্যবসায়ীকে রশিদ বা চালান রাখতে হয়। দাম মেটানোর আগে দেখে নিন:

  • গুঁড়া মসলা বেশি লাগলে গোটা মসলা কিনে চেনা কলে গুঁড়া করানোর কথা ভাবুন; ২০২৬ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ভেজালের খবরের পর চট্টগ্রামে অনেক পরিবারও সেদিকে ঝুঁকছে।
  • বস্তা খুলে দেখুন পোকা, ছত্রাক, ভেজা ভাব বা ধুলাবালি আছে কিনা, গন্ধ তাজা কিনা।
  • জিরায় অন্য রকম দেখতে দানা মেশানো আছে কিনা দেখুন; সন্দেহ হলে অন্য বিক্রেতার নমুনার পাশে রেখে মেলান।
  • প্যাকেটে তারিখ আর উৎপাদকের তথ্য দেখুন; তথ্য মোছা থাকলে নেবেন না, আর বিদেশি মোড়ক দেখেই ভরসা করবেন না।
  • ওজন সামনে মেপে নিন, আর দর, পরিমাণ ও তারিখ লেখা রশিদ বা চালান নিন।
  • কেনা মসলা শুকনো, বন্ধ জায়গায় রাখুন; বস্তা ভেজা মেঝেতে রাখবেন না।

মসলার বাজারে না গিয়েও পাইকারি কিনুন

কোন মসলা, গোটা না গুঁড়া, কত কেজি, কেমন প্যাকিং, কোন জেলায় আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। বাজারে গিয়ে দরদাম বা একা মাল যাচাইয়ের ঝামেলা থাকে না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।

পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে লেনদেন করতে চাইলে Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দিলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

মসলার পাইকারি বাজার কোথায়?

ঢাকায় পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার, সঙ্গে শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার; চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ ও পাশের চাক্তাই।

চট্টগ্রামে মসলার পাইকারি বাজার কোথায়?

খাতুনগঞ্জ ও পাশের চাক্তাইয়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী কিছু ব্যবসায়ী শহরের অন্য এলাকায় সরে গেছেন, তাই বিক্রেতার বর্তমান ঠিকানা ফোনে জেনে নিন।

মসলার পাইকারি দাম কত?

Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দর সাধারণত কেজি ধরে বলা হয় আর মসলার ধরন, মান, উৎস দেশ, সরবরাহ ও মৌসুমভেদে ওঠানামা করে; আপনার চাহিদার দাম, ন্যূনতম অর্ডার ও ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।

মসলার দোকান কখন খোলা থাকে, কবে বন্ধ?

ঢাকার এলাকাভিত্তিক বন্ধের তালিকায় (২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত) মৌলভীবাজার ও বেগমবাজার সাধারণত শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ওই নিয়মের বাইরে, তাই কিছু দোকান খোলা থাকতে পারে। খোলার সময় ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের সরকারি নির্দেশনায় সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা, খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া; মসলার আড়ত এর আওতায় কি না স্পষ্ট নয়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

গুঁড়া মসলা পাইকারি কিনলে ভেজাল এড়াব কীভাবে?

সম্ভব হলে গোটা মসলা কিনে চেনা কলে গুঁড়া করান। প্যাকেটে তারিখ ও উৎপাদকের তথ্য দেখুন, রশিদ বা চালান নিন, আর শুধু মান-চিহ্ন দেখে নিশ্চিন্ত হবেন না।

ঢাকার বাইরে থেকে কি মসলা পাইকারি কেনা যায়?

হ্যাঁ, মৌলভীবাজারে ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও ক্রেতারা আসেন, আর খাতুনগঞ্জে নিয়মিত ক্রেতারা অনেক সময় ফোনে অর্ডার দিয়ে ট্রান্সপোর্টে মাল নেন। বাজারে না গিয়ে কিনতে চাইলে Roptan-কে চাহিদা জানান।

পাইকারি কেনার চাহিদা পাঠান

বাজারে না গিয়েও কিনুন: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর আপনার ঠিকানায় পাঠায়।