পাইকারি পণ্য
ককশিট পাইকারি বাজার
ককশিট (অনেকে লেখেন কর্কশিট) হলো থার্মোকল, অর্থাৎ পলিস্টাইরিন ফোম; মাছ রাখা ও পরিবহন, ইলেকট্রনিক পণ্যের প্যাকিং আর অনুষ্ঠান সাজানোর কাজে এটি ব্যবহার হয়। 'ককশিট পাইকারি বাজার' নামে নির্দিষ্ট কোনো বাজার, তার রাস্তা বা সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আমরা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। প্রস্তুতকারকদের নিজেদের সাইট অনুযায়ী দেশেই ব্লক ও শিট তৈরি হয় এবং সাধারণত বড় ব্লক থেকে অর্ডারমতো মাপে কেটে দেওয়া হয়, তাই পাইকারি কেনার আসল কাজ হলো পুরুত্ব, মাপ, মান আর পরিমাণ পরিষ্কার করে বলা।
- অন্য নাম
- কর্কশিট, থার্মোকল, ইপিএস (এক্সপান্ডেড পলিস্টাইরিন), স্টাইরোফোম; বক্সকে অনেকে থার্মোকল বক্স বা আইচ বক্স বলেন
- যে কাজে লাগে
- মাছ রাখা ও পরিবহন, ইলেকট্রনিক পণ্যের প্যাকিং, ঘর ও অনুষ্ঠান সাজানো
- খাবারের মোড়ক
- স্টাইরোফোমের খাবারের মোড়ক ও ধারক ২০২৪ সালে ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার জন্য একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের তালিকায় উঠেছে
- প্লাস্টিক বর্জ্যের ইপিআর নির্দেশিকা
- ১৩ আগস্ট ২০২৬ গেজেটে প্রকাশিত; স্টাইরোফোম বা ইপিএস একটি আলাদা শ্রেণি
ককশিট কী, আর কোন কাজে লাগে
ককশিট আসলে পলিস্টাইরিন ফোম। সংবাদমাধ্যমে একে ককশিট, কর্কশিট বা থার্মোকল বলা হয়, আর প্রস্তুতকারকেরা বলেন ইপিএস (এক্সপান্ডেড পলিস্টাইরিন) বা স্টাইরোফোম। এর বক্সকে অনেকে থার্মোকল বক্স বা আইচ বক্স নামেও চেনেন।
দেশে এর বড় একটি ব্যবহার মাছে: মাছ ধরার পর থেকে বিক্রি আর সংরক্ষণ পর্যন্ত জেলেদের কাজে ককশিট লাগে, আর পাইকারি মাছ বাজারে ককশিটের বক্স চেনা দৃশ্য। টিভি, ফ্রিজের মতো পণ্যের সঙ্গে সুরক্ষার মোড়ক হিসেবেও এটি দেওয়া হয়। ঘর সাজাতে, আর জন্মদিন, গায়ে হলুদ বা বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে রং, কাটিং আর চুমকি দিয়ে ককশিটের নকশা করা হয়।
প্রস্তুতকারকদের সাইট অনুযায়ী দেয়াল ও ছাদের তাপ-অন্তরণ (ইনসুলেশন) আর কোল্ড স্টোরেজেও সাধারণত ইপিএস ব্যবহার হয়; ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে নির্মাণ শিল্পে এর ব্যবহার বাড়ার কথাও আছে।
ককশিট পাইকারি কোথায় পাবেন
ঢাকার কয়েকটি প্রস্তুতকারক নিজেদের সাইটে জানিয়েছে, তারা দেশেই ইপিএস ব্লক ও শিট তৈরি করে; একটি সাইটে আছে, কাঁচামাল আমদানি করা হয়। এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাইটে ঠিকানা ডেমরার সারুলিয়া এলাকায়, আর একটি সাইট ডেমরা থেকে সারা দেশে সরবরাহের কথা বলে। এগুলো প্রস্তুতকারকের ঠিকানা, কোনো পরিচিত পাইকারি বাজার নয়, আর সেখানকার বন্ধের দিন বা খোলার সময় কোনো সূত্রে পাইনি; যাওয়ার আগে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
চট্টগ্রামে দুটি জায়গায় ককশিটের ব্যবহারের কথা খবরে এসেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে চেরাগী মোড়ের ফুলের দোকানগুলোতে অনুষ্ঠান সাজে এর ব্যাপক ব্যবহারের কথা আছে, আর ২০২৫ সালের মে মাসের এক ছবির প্রতিবেদন অনুযায়ী নগরের নতুন মাছ বাজারে ব্যবহার করা ককশিটের বক্স জোগাড় করে, মেরামত করে আবার বিক্রি হয়। তবে এ দুটির কোনোটিকেই শিট পাইকারি কেনার বাজার বলা হয়নি।
অর্ডারের আগে যা ঠিক করে বলবেন
শুধু 'মোটা শিট' বা 'ভালো মাল' বললে ভুল জিনিস আসার ঝুঁকি থাকে। একটি প্রস্তুতকারকের সাইট অনুযায়ী তারা বড় ব্লক থেকে গরম তার (হট ওয়্যার) দিয়ে ১০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত যেকোনো পুরুত্বে শিট কাটে; আরেকটি সাইটেও অর্ডারমতো মাপ ও পুরুত্বের কথা আছে। তাই অর্ডারে এগুলো লিখে দিন:
- পুরুত্ব: মিলিমিটার বা ইঞ্চিতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা।
- মাপ: দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, আর পুরো শিট লাগবে না নির্দিষ্ট মাপে কেটে দিতে হবে।
- ঘনত্ব বা মান: কতটা শক্ত ও ভারী চান, কথায় বুঝিয়ে বলুন, আর লিখুন কী কাজে লাগবে (মাছের বক্স, পণ্যের প্যাকিং, সাজ না অন্তরণ)।
- কাটিং: সোজা শিট, না নকশা বা খাঁজ কেটে দিতে হবে; নকশা হলে মাপসহ ছবি দিন।
- পরিমাণ: কতগুলো শিট বা ব্লক; প্রথমবার হলে আগে অল্প কিছু নমুনা নিন।
- ডেলিভারির জেলা, ঠিকানা আর কবের মধ্যে লাগবে।
দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর পরিবহন
ককশিটের দাম সাধারণত নির্ভর করে পুরুত্ব, মাপ, ঘনত্ব, কাটিংয়ের কাজ, পরিমাণ আর পরিবহনের ওপর। একই সংখ্যক শিটেও পুরুত্ব বা ঘনত্ব বদলালে দর বদলায়, তাই দুটি দর মেলানোর আগে দেখুন দুটোই একই মাপ আর মানের কিনা। ন্যূনতম অর্ডার বিক্রেতাই ঠিক করেন, তাই দর নেওয়ার সময় সেটাও জেনে নিন।
ককশিট হালকা, কিন্তু অনেক জায়গা নেয়। তাই ডেলিভারি খরচ দামের মধ্যে ধরা আছে কিনা, আর ভাড়া ওজন ধরে হবে না আকার ধরে, আগে জেনে নিন। খোলা গাড়িতে পাঠালে শিট সমান করে সাজিয়ে, ওপরে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দড়ি দিয়ে বাঁধতে বলুন, যাতে বাতাসে উড়ে না যায় বা কোনা না ভাঙে। অল্প পরিমাণ কুরিয়ারে পাঠাতে চাইলে বড় মাপের শিট তারা নেবে কিনা, আগে জিজ্ঞেস করুন।
মাল বুঝে নেওয়ার সময় যা দেখবেন
নমুনা হাতে পেলে একবার, আর পুরো চালান এলে আরেকবার এগুলো মিলিয়ে নিন:
- কয়েকটি শিটের কয়েক জায়গায় স্কেল দিয়ে পুরুত্ব মাপুন, অর্ডারের সঙ্গে মেলে কিনা।
- দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর কোনা সোজা কিনা; বাঁকা কাটা শিট বাক্সে বা জোড়ায় ঠিকমতো বসে না।
- গায়ে ফাটল, গর্ত বা ভাঙা কোনা আছে কিনা, আর আঙুলে চাপ দিলে দানা ঝরে পড়ে কিনা।
- একই মাপের দুটি শিট হাতে নিয়ে ওজন মেলান; অনেক হালকা হলে ঘনত্ব কম হতে পারে।
- শিট গুনে নিন, আর ভাঙা বা ভুল মাপের মাল এলে কী হবে, তা আগেই লিখিতভাবে ঠিক করুন।
ককশিট নিয়ে সরকারি নিয়ম
২০২৪ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর আওতায় ১৭ ধরনের সামগ্রীকে একবার ব্যবহার্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা। তালিকায় একবার ব্যবহারের তৈজসপত্র ও কাটলারির সঙ্গে স্টাইরোফোমের খাবারের মোড়ক বা ধারক আলাদা করে আছে, যেমন বিরিয়ানির প্যাকেট; ২০২৪ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে ছাপা তালিকায় 'যেকোনো পণ্যের একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক প্যাকেজিং' নামে একটি সাধারণ দফাও আছে। সাজ বা অন্তরণের শিটের নাম তালিকায় নেই, তবে কোন তারিখ থেকে কোন ব্যবহার অপরাধ হবে, তা আমাদের দেখা সূত্রগুলোতে নেই। তাই খাবারের প্যাকেট, থালা বা পণ্যের মোড়ক হিসেবে ককশিট ব্যবহারের কথা ভাবলে আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান নিয়ম জেনে নিন।
১৩ আগস্ট ২০২৬ পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ গেজেটে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রকাশ করেছে। এতে প্লাস্টিক পণ্যের পাঁচটি শ্রেণির একটি 'স্টাইরোফোম বা ইপিএস', আর প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে; শুধু রপ্তানি আদেশে উৎপাদনকারী শিল্প এর বাইরে। নিজের ব্র্যান্ডের পণ্যে ককশিটের প্যাকিং দিলে নির্দেশিকাটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা জেনে নিন।
ব্যবহারের পর ককশিট যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রামে ফেলে দেওয়া ককশিট নালা-নর্দমায় জমে জলাবদ্ধতা তৈরির কথা এসেছে, আর পরিবেশ আন্দোলনের এক নেতার ভাষ্যে এটি পচে না, মাটির সঙ্গেও মেশে না।
কারখানা খুঁজে না ঘুরে Roptan-কে চাহিদা জানান
পুরুত্ব, মাপ, কোন কাজে লাগবে, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে জানালে Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে প্রস্তুতকারক খুঁজে ঘুরতে, দরদাম করতে বা একা মাল যাচাই করতে হয় না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে সরাসরি কথা বলতে চাইলে সাইটের Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দেবেন, আর আপনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
ককশিট পাইকারি বাজার কোথায়?
ককশিটের নির্দিষ্ট কোনো পাইকারি বাজার, তার রাস্তা বা বন্ধের দিন আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাইনি। ঢাকায় কয়েকটি প্রস্তুতকারক নিজেদের সাইটে ঠিকানা দিয়েছে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায়, আর প্রস্তুতকারকদের সাইট অনুযায়ী সাধারণত ব্লক থেকে অর্ডারমতো শিট কেটে দেওয়া হয়।
ককশিট আর থার্মোকল কি একই জিনিস?
হ্যাঁ। ককশিট, কর্কশিট, থার্মোকল, ইপিএস আর স্টাইরোফোম, সবই পলিস্টাইরিন ফোম; এর বক্সকে অনেকে থার্মোকল বক্স বা আইচ বক্সও বলেন।
ককশিট পাইকারি অর্ডারে কী কী লিখতে হয়?
পুরুত্ব (মিলিমিটার বা ইঞ্চিতে), দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, কতটা শক্ত বা ঘন চান আর কী কাজে লাগবে, কাটিং বা নকশা লাগবে কিনা, পরিমাণ, ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে।
ককশিটের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। দাম সাধারণত পুরুত্ব, মাপ, ঘনত্ব, কাটিংয়ের কাজ, পরিমাণ আর পরিবহনের ওপর নির্ভর করে; আপনার চাহিদা অনুযায়ী দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
ককশিট কি নিষিদ্ধ?
সব ধরনের ককশিটের ওপর সাধারণ কোনো নিষেধাজ্ঞার সরকারি সূত্র আমরা ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাইনি, তবে দুটি নিয়ম এর সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় স্টাইরোফোমের খাবারের মোড়ক ও ধারক (যেমন বিরিয়ানির প্যাকেট) আর একবার ব্যবহারের তৈজসপত্রকে ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার জন্য একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের তালিকায় তুলেছে, আর ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর ইপিআর নির্দেশিকা স্টাইরোফোম বা ইপিএসের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের দায় দিয়েছে। খাবারের প্যাকেট, থালা বা পণ্যের মোড়ক হিসেবে ব্যবহারের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিন; নিয়ম বদলাতে পারে।
ককশিট কি বাংলাদেশে তৈরি হয়?
প্রস্তুতকারকদের নিজেদের সাইট অনুযায়ী দেশেই ইপিএস ব্লক ও শিট তৈরি হয়। একটি সাইটে লেখা আছে, কাঁচামাল আমদানি করা হয়।