পাইকারি পণ্য
টিস্যু ও কাগজের পাইকারি বাজার
ঢাকায় কাগজ ও কাগজজাত পণ্যের পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র পুরান ঢাকার নয়াবাজার; ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে ফকিরাপুলকেও ঢাকার কাগজ ব্যবসার কেন্দ্র বলা হয়েছে। টিস্যুর জন্য আলাদা কোনো পাইকারি বাজার আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি, তবে টিস্যু ও হাইজিন পেপার দেশেই তৈরি হয়। তাই কাগজে ধরন, জিএসএম আর বিক্রির একক, আর টিস্যুতে প্লাই, শিটের সংখ্যা আর ওজন মিলিয়ে দর নেওয়াই আসল কাজ।
- কাগজের পাইকারি কেন্দ্র
- নয়াবাজার, পুরান ঢাকা
- ঢাকার আরেক কাগজ ব্যবসার কেন্দ্র
- ফকিরাপুল (২০২২ সালের প্রতিবেদন)
- টিস্যু দেশে তৈরি হয় কিনা
- হ্যাঁ, টিস্যু ও হাইজিন পেপার দেশেই তৈরি হয়
- রপ্তানিমুখী টিস্যু পণ্য
- টয়লেট পেপার ও ন্যাপকিন (২০২৩ সালের প্রতিবেদন)

ছবিটি পণ্যের ধরন বোঝাতে দেওয়া। Photo: “Stack of blue paper” by Arria Belli, CC BY-SA 2.0.
কাগজের পাইকারি বাজার: নয়াবাজার
পুরান ঢাকার নয়াবাজার কাগজের পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত জায়গা। ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের নানা জায়গা থেকে লোকজন এখানে নানা ধরনের কাগজ ও কাগজজাত পণ্য কিনতে আসেন। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনেও নয়াবাজারের সঙ্গে ফকিরাপুলকে ঢাকার কাগজ ব্যবসার কেন্দ্র বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারির একটি তালিকা অনুযায়ী নয়াবাজার সাধারণত শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে; ঢাকায় দোকানপাটের সাপ্তাহিক বন্ধ ২০১০ সালের এক সিদ্ধান্তে এলাকা ধরে ঠিক করা। নয়াবাজারের নিজস্ব খোলার সময় কোনো সূত্রে পাইনি; তবে ১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে সারা দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম চালু আছে (খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে), আর ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
টিস্যু সেখানে পাইকারি মেলে কিনা, দোকানে জিজ্ঞেস করে নিন; নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির টিস্যু চাইলে সেটাও বলে দিন।
কাগজের ধরন, আর কোনটা কোন এককে বিক্রি হয়
কাগজ কতটা ভারী বা মোটা, তা বোঝাতে জিএসএম লাগে, মানে প্রতি বর্গমিটার কাগজের ওজন কত গ্রাম। আর্ট পেপার কিনলে জিজ্ঞেস করুন সেটা দেশি না আমদানি করা: ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে এক ব্যবসায়ী চাহিদামতো চীন থেকে আর্ট পেপার আনার কথা বলেছিলেন, যদিও দেশের কয়েকটি মিল তখন তা বানাতে শুরু করেছিল।
২০২২ সালের কাগজের দামের খবরগুলোতে যে ধরন আর বিক্রির একক বারবার এসেছে, সেগুলো এমন:
- নিউজপ্রিন্ট: পত্রিকার কাগজ, সাধারণত ৪০ থেকে ৫৫ জিএসএম; বেশির ভাগ দৈনিক পত্রিকা ছাপা হয় ৪৫ জিএসএমে। দর সাধারণত টন হিসেবে বলা হয়।
- লেখার কাগজ (রাইটিং পেপার) আর অফসেট পেপার: ২০২২ সালের মার্চের এক খবরে দুটোরই দর কেজি হিসেবে, অফসেটের ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে। দোকানে রিম ধরে দর বললে প্রতি রিমে কত শিট, জেনে নিন; রিম মানে একসঙ্গে প্যাক করা নির্দিষ্ট সংখ্যক শিট।
- আর্ট পেপার: ওই খবরে আমদানি করা আর্ট পেপারের দর কেজি হিসেবে, আর পাইকারি ও খুচরায় রিম হিসেবেও বলা হয়েছে।
- কাভার বা গ্লোসি বোর্ড: দর সাধারণত শিট ধরে।
- বই ও প্যাকেজিংয়ের কাগজ: বিক্রির একক দোকানে জেনে নিন।
টিস্যুর ধরন, আর দেশে তৈরি হয় কিনা
দেশে বহু কাগজকল আছে বলে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে এসেছে, আর টিস্যু ও হাইজিন পেপারও দেশেই তৈরি হয়। ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়েকটি বেসরকারি কাগজকল রপ্তানি মানের নরম টিস্যু পেপার বানাচ্ছে; ২০২৩ সালের ওই প্রতিবেদনে টয়লেট পেপার ও ন্যাপকিনকে রপ্তানিমুখী কাগজজাত পণ্যের মধ্যে ধরা হয়েছে।
২০১৮ সালে দেশের এক কাগজ উৎপাদকের রপ্তানি করা হাইজিন পণ্যের তালিকায় ছিল টয়লেট পেপার, পেপার ন্যাপকিন, ফেসিয়াল টিস্যু, কিচেন টাওয়েল, পকেট টিস্যু, পেপার টাওয়েল ও জাম্বো রোল টিস্যু। কেনার আগে ঠিক করুন কোনটা লাগবে: রেস্তোরাঁর টেবিলে ন্যাপকিন, অফিসের ওয়াশরুমে ডিসপেনসার থাকলে তার মাপের জাম্বো রোল, আর দোকানে বিক্রির জন্য ফেসিয়াল বা পকেট টিস্যু।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের এক খবর অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১৭ ধরনের একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিককে ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করেছে, আর সেই তালিকায় টিস্যু পেপার ও টয়লেট রোলের পাতলা প্লাস্টিকের মোড়কও আছে। কোন তারিখ থেকে কী কার্যকর হবে, তা ওই খবরে নেই; তাই বড় অর্ডারের আগে মোড়কের বর্তমান নিয়ম জেনে নিন।
টিস্যু কেনার আগে যা মিলিয়ে দেখবেন
দেখতে এক রকম দুটি টিস্যুর মান আলাদা হতে পারে। জিএসএম জানা থাকলে মেলান: সাধারণত পেপার টাওয়েল ২০ থেকে ২৪ জিএসএমের হয়, আর প্যাকিংয়ের পাতলা টিস্যু পেপার ১৭ থেকে ৪০ জিএসএমের মধ্যে। নমুনা হাতে নিয়ে এগুলো দেখুন:
- প্লাই: প্রতি শিটে কয় স্তর; টয়লেট পেপার সাধারণত এক, দুই, তিন বা চার প্লাইয়ের হয়।
- শিটের সংখ্যা: প্রতি রোলে বা প্যাকেটে কত শিট, তা সাধারণত প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে; না থাকলে গুনে দেখুন।
- ওজন: রোল, প্যাকেট বা কার্টনের ওজন জেনে নিন; প্লাই আর শিট সমান হলে একই দামে ভারীটায় কাগজ বেশি।
- মান: হাতে ঘষলে গুঁড়া বা আঁশ ঝরে কিনা, আর ভেজা হাতে সহজে ছিঁড়ে যায় কিনা।
- প্যাক: পাইকারি প্যাক বা কার্টনে কয়টি রোল বা প্যাকেট, আর দর প্যাকেট, ডজন না কার্টন ধরে, তা লিখিয়ে নিন।
- মাল পৌঁছালে: প্যাকেটের সিল ঠিক আছে কিনা, আর কোথাও ভেজা দাগ বা গন্ধ আছে কিনা।
দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারি
কাগজ ও টিস্যুর দাম সাধারণত নির্ভর করে ধরন, জিএসএম, শিটের মাপ, প্লাই, পরিমাণ আর কোন এককে কেনা হচ্ছে তার ওপর। দুটি দর মেলানোর আগে দেখুন একক এক কিনা: একটি রিমপ্রতি আর আরেকটি কেজিপ্রতি হলে সরাসরি তুলনা চলে না। ন্যূনতম অর্ডার বিক্রেতাই ঠিক করেন, তাই দর নেওয়ার সময় জেনে নিন।
কাগজ ভারী, আর টিস্যু হালকা হলেও জায়গা নেয়; দুটোই ভিজলে নষ্ট হয়। তাই পাঠানোর সময় কার্টন বৃষ্টি থেকে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা আছে কিনা, আর ডেলিভারি খরচ দামের মধ্যে ধরা কিনা, আগে ঠিক করুন।
বাজার না ঘুরে Roptan-কে চাহিদা জানান
কাগজ হলে ধরন, জিএসএম, মাপ আর পরিমাণ, টিস্যু হলে ধরন, প্লাই, রোল বা প্যাকেটের মাপ আর পরিমাণ লিখুন, সঙ্গে ডেলিভারির জেলা আর কবের মধ্যে লাগবে। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে দোকান ঘুরে দরদাম করতে বা একা মাল যাচাই করতে হয় না; লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
পুরো চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে। সরবরাহকারীর সঙ্গে নিজে সরাসরি কথা বলতে চাইলে সাইটের Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর দেবেন, আর আপনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
টিস্যুর পাইকারি বাজার কোথায়?
টিস্যুর জন্য আলাদা কোনো পাইকারি বাজার আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। কাগজ ও কাগজজাত পণ্যের পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র পুরান ঢাকার নয়াবাজার; সেখানে টিস্যু পাইকারি মেলে কিনা দোকানে জিজ্ঞেস করে নিন, অথবা ধরন আর পরিমাণ লিখে Roptan-কে জানান।
কাগজের পাইকারি দাম কত?
Roptan সাইটে দাম প্রকাশ করে না। কাগজের দর সাধারণত রিম, কেজি, টন বা শিট ধরে বলা হয়, আর তা নির্ভর করে ধরন, জিএসএম, মাপ ও পরিমাণের ওপর; আপনার চাহিদা অনুযায়ী দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।
নয়াবাজার কবে বন্ধ থাকে?
২০২৪ সালের জানুয়ারির একটি তালিকা অনুযায়ী নয়াবাজার সাধারণত শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে সরকারি নির্দেশে দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম চালু আছে, তবে তা বদলাতে পারে; যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
রিম মানে কী?
রিম মানে একসঙ্গে প্যাক করা নির্দিষ্ট সংখ্যক কাগজের শিট। ২০২২ সালের মার্চের এক খবরে আর্ট পেপারের পাইকারি ও খুচরা দর রিম ধরে, আর লেখার ও অফসেট কাগজের দর কেজি ধরে বলা হয়েছে; তাই দর নেওয়ার সময় একক আর প্রতি রিমে কত শিট, দুটোই জেনে নিন।
টিস্যু কেনার সময় কী দেখব?
প্লাই, প্রতি রোল বা প্যাকেটে শিটের সংখ্যা, ওজন আর শিটের মাপ মিলিয়ে দেখুন। বড় অর্ডারের আগে নমুনা নিয়ে নরমভাব আর ভেজা অবস্থায় কতটা টেকে, দেখে নিন।
টিস্যু কি বাংলাদেশে তৈরি হয়?
হ্যাঁ, টিস্যু ও হাইজিন পেপার দেশেই তৈরি হয়। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে টয়লেট পেপার ও ন্যাপকিনকে রপ্তানিমুখী কাগজজাত পণ্যের মধ্যে ধরা হয়েছে।
নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির টিস্যু বা কাগজ পাইকারি কিনতে চাইলে কী করব?
চাহিদায় কোম্পানির নাম, পণ্যের ধরন, মাপ বা প্লাই, পরিমাণ আর ডেলিভারির জেলা লিখে Roptan-কে জানান। দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে।