তৈরি পোশাকের পাইকারি পল্লি, বুড়িগঙ্গার ওপারে
কেরানীগঞ্জ পাইকারি কাপড়ের মার্কেট
কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, বুড়িগঙ্গার ওপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর, পূর্ব আগানগর, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগ এলাকাজুড়ে। এখানে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, বোরকা ও শাড়ির মতো তৈরি পোশাক আর থান কাপড় পাইকারি বিক্রি হয়, আর দেশের নানা জেলার পাইকার ও দোকানদারেরা এখান থেকে পোশাক কেনেন। ঢাকা থেকে সড়কপথে যেতে হয় বুড়িগঙ্গার সেতু পার হয়ে।
- এলাকা
- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, বুড়িগঙ্গার ওপারে: আগানগর, পূর্ব আগানগর, কালীগঞ্জ, খেজুরবাগ
- যাওয়ার পথ
- বুড়িগঙ্গার তিনটি সেতু; বাবুবাজার সেতু ঢাকার নয়াবাজার থেকে কদমতলী
- যা পাওয়া যায়
- গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, বোরকা, শাড়ি, থান কাপড়
- ব্যস্ত মৌসুম
- শবে বরাতের পরদিন থেকে রোজার ঈদ; শীতের পোশাক নভেম্বর থেকে জানুয়ারি
- কারা কেনেন
- দেশের নানা জেলার পাইকার ও খুচরা দোকানদার

ছবিটি পণ্যের ধরন বোঝাতে দেওয়া। Photo: “my ol' jeans” by aesop, CC BY-SA 2.0.
কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি কোথায়
কেরানীগঞ্জ ঢাকা জেলার একটি উপজেলা, ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে। এর উত্তরে নদীর এপারে লালবাগ, কোতোয়ালি ও সূত্রাপুরসহ পুরান ঢাকার কয়েকটি থানা। পোশাকপল্লিটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে, আগানগর, পূর্ব আগানগর, চরকালীগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগ নিয়ে মোটামুটি দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়ানো।
কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা আগানগরের লাগোয়া, তবে জিঞ্জিরার পরিচিতি মূলত ছোট ও কুটিরশিল্প, লোহার কারখানা এবং যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য। পোশাক পাইকারি কিনতে চাইলে জিঞ্জিরা নয়, খুঁজুন আগানগর, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগ এলাকার মার্কেট ও শোরুম।
এখানে পোশাক কারখানা শুরু হয় আশির দশকে, আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নে ছোট পরিসরে। তখন বুড়িগঙ্গার পারে নৌকায় ঝুট কাপড় (পোশাক কারখানার বেঁচে যাওয়া টুকরো কাপড়) আসত, আর তা দিয়েই আশপাশের লোকজন ব্যবসা শুরু করেন; একসময়ের ছোট বাজারটি এখন দেশে তৈরি পোশাকের পাইকারি কেন্দ্র।
ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন
ঢাকা শহর থেকে কেরানীগঞ্জে যাওয়ার সেতু তিনটি: পোস্তগোলার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু), বাবুবাজার সেতু (বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু) আর মোহাম্মদপুরের দিকের বুড়িগঙ্গা তৃতীয় সেতু। বাবুবাজার সেতুর উত্তর মাথা ঢাকার নয়াবাজারে, দক্ষিণ মাথা কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে। সংস্কারের পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ পোস্তগোলা সেতু আবার সব ধরনের যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
কোন সেতু দিয়ে গেলে সুবিধা, তা নির্ভর করে আপনি ঢাকার কোন দিক থেকে আসছেন আর পোশাকপল্লির কোন অংশে যাবেন তার ওপর। প্রথমবার গেলে যে শোরুমে যাবেন, সেখানে আগে ফোন করে পথ জেনে নিন।
কেরানীগঞ্জে কী পাওয়া যায়
কেরানীগঞ্জ মূলত দেশে তৈরি পোশাকের পাইকারি পল্লি। ২০২৬ সালের রোজার ঈদের আগে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি ছিল পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস আর বাচ্চাদের পোশাকে।
শীতের পোশাকও এখানে ও পাশের কামরাঙ্গীরচরে তৈরি হয়; ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের খবর অনুযায়ী কেরানীগঞ্জে এর আলাদা পাইকারি বাজারও আছে, আর মৌসুম মোটামুটি নভেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত।
পোশাকপল্লিতে পাইকারি যা পাওয়া যায়:
- গেঞ্জি ও টি-শার্ট
- শার্ট আর প্যান্ট, জিন্স ও ডেনিমসহ
- পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও পায়জামা
- সালোয়ার-কামিজ ও থ্রি-পিস
- বোরকা ও শাড়ি
- শিশুদের পোশাক
- থান কাপড়, মানে পুরো রোল কাপড়
কখন যাবেন: মৌসুম, সময় ও বন্ধের দিন
এখানকার বেচাকেনার মূল মৌসুম রোজার ঈদের আগে। শবে বরাত পেরোলেই পাইকারদের আসা শুরু হয়, রমজানে ভিড় বাড়ে, আর মৌসুমের শেষ দিকে বেশি আসেন ঢাকা ও কাছের এলাকার ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে বছরের বেচাকেনার বড় অংশ হয় ঈদের আগেই, তাই দূরের জেলা থেকে কিনতে চাইলে মৌসুমের শুরুতেই যোগাযোগ করুন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির খবর অনুযায়ী সেবারের ঈদের মৌসুমে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলেছিল। তবে ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারা দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়; খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এর বাইরে, পোশাকের শোরুম এই ছাড়ের মধ্যে পড়ে না। কেরানীগঞ্জের দোকানগুলো নিজেরা কখন খোলে আর সাপ্তাহিক কোন দিন বন্ধ থাকে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের খবর অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছিলেন যে এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়েছে, আর পুলিশ নজরদারি ও টহল বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল। ভিড়ের মৌসুমে গেলে সঙ্গে বেশি নগদ রাখবেন না, আর কেনা মাল নিজের সামনে বাঁধাই করিয়ে গাড়িতে তুলুন।
কেরানীগঞ্জে পাইকারি কেনা কীভাবে হয়
এখানকার মার্কেটগুলো সাধারণত কয়েক তলা ভবন: নিচের দিকের তলায় পাইকারি শোরুম, ওপরের তলায় কারখানা ও গুদাম। শোরুমের পোশাকের বেশির ভাগ সাধারণত এই এলাকাতেই তৈরি, তাই অনেক সময় আপনি সরাসরি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকেই কিনছেন; ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে কিছু পোশাক ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আনার কথাও আছে। কোন পোশাক দেশে তৈরি আর কোনটি আমদানি করা, তা কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নিন।
পোশাক সাধারণত ডজন হিসাবে বেচাকেনা হয়। দাম ঠিক করার আগে জেনে নিন: কমপক্ষে কত ডজন নিতে হবে, এক ডজনে সাইজ ও রং মেশানো যাবে কি না, বড় অর্ডারের আগে নমুনা পিস নেওয়া যাবে কি না, আর পরে একই ডিজাইন আবার পাওয়া যাবে বা ফোনে অর্ডার দেওয়া যাবে কি না। নগদে দেবেন নাকি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, আর মেমো পাবেন কি না, তাও শুরুতেই ঠিক করুন; নতুন ক্রেতা হিসেবে বাকিতে মাল পাবেন, এমন ধরে নেবেন না।
অন্য জেলায় পাঠাতে হলে প্যাকিং কে করবে আর মাল কুরিয়ার বা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে কে পৌঁছে দেবে, তা কেনার সময়ই ঠিক করুন। পোশাকের বস্তা বা কার্টন যেন ভিজে না যায়, সেভাবে মুড়িয়ে নিতে বলুন, আর চালানের রসিদ হাতে রাখুন।
দাম দেওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
পুরো দাম মেটানোর আগে প্রতিটি ডজন খুলে কয়েকটি পিস নিজে দেখে নিন, বিশেষ করে কোনো শোরুম থেকে প্রথমবার কিনলে। ফোনে বা অনলাইনে অচেনা বিক্রেতাকে পুরো দাম আগাম পাঠাবেন না।
- সেলাই, বোতাম, চেইন ও প্রিন্টে ত্রুটি আছে কি না
- সাইজের লেবেল আর আসল মাপ মেলে কি না
- নমুনার সঙ্গে পুরো অর্ডারের কাপড়, রং ও মান মেলে কি না
- জিন্স বা গাঢ় রঙের পোশাকের রং পাকা কি না: একটি পিস ধুয়ে দেখুন
- গুনে দেখলে অর্ডারের ডজন আর হাতে পাওয়া পিস মেলে কি না
- মেমোতে পোশাকের বিবরণ, পরিমাণ, দর আর মোট দাম লেখা আছে কি না
কেরানীগঞ্জে না গিয়েও তৈরি পোশাক পাইকারি কিনুন
দূরের জেলা থেকে এসে নদী পার হওয়া, শোরুম ঘুরে দর মেলানো আর মাল পাঠানোর ব্যবস্থা করা মানে অনেকটা সময় আর ঝামেলা, মৌসুমে ভিড়ও থাকে। Roptan-এর মাধ্যমে কিনলে এসব নিজে করতে হয় না। আপনি জানান কী লাগবে; Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পণ্য দেখে নেয়, তারপর বাংলাদেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনার লেনদেন হয় শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
চাহিদায় লিখুন কোন পোশাক (যেমন কোন কাপড়ের পাঞ্জাবি বা কোন বয়সের বাচ্চার পোশাক), কত ডজন বা কত পিস, কোন জেলায় পৌঁছাবে, আর কবে লাগবে। পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর পাবেন। সাইটে দাম দেওয়া থাকে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ কোটেশনে জানানো হয়।
বিক্রেতার সঙ্গে নিজে সরাসরি কথা বলতে চাইলে সাইটের Requirement board-এ চাহিদা পোস্ট করুন। সদস্য সরবরাহকারীরা দর দেবেন, আর আপনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
কেরানীগঞ্জ কাপড়ের পাইকারি মার্কেট কোথায়?
ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, বুড়িগঙ্গার ওপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। পোশাকপল্লি আগানগর, পূর্ব আগানগর, চরকালীগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগ এলাকাজুড়ে।
ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ পোশাকপল্লিতে কীভাবে যাব?
সড়কপথে বুড়িগঙ্গার তিনটি সেতুর যেকোনো একটি পার হয়ে যেতে হয়; যেমন ঢাকার নয়াবাজার থেকে বাবুবাজার সেতু গেছে কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে। প্রথমবার গেলে যে শোরুমে যাবেন, সেখানে ফোন করে পথ জেনে নিন।
কেরানীগঞ্জে কী কী পোশাক পাইকারি পাওয়া যায়?
গেঞ্জি, টি-শার্ট, শার্ট, জিন্সসহ প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রি-পিস, বোরকা, শাড়ি, শিশুদের পোশাক আর থান কাপড়। ২০২৫ সালের খবর অনুযায়ী শীতের পোশাকের আলাদা পাইকারি বাজারও আছে।
কেরানীগঞ্জ পাইকারি মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
সাপ্তাহিক বন্ধের দিনের নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। খোলার সময়ের একটি সরকারি নিয়ম আছে: ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশের মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
জিঞ্জিরা আর কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি কি একই জায়গা?
না। জিঞ্জিরা কেরানীগঞ্জের একটি এলাকা, যার পরিচিতি মূলত লোহার কারখানা আর যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য; পোশাকের পাইকারি পাবেন আগানগর, কালীগঞ্জ ও খেজুরবাগে।
কেরানীগঞ্জে কখন ভিড় বেশি থাকে?
রোজার ঈদের আগে: শবে বরাতের পরদিন থেকেই পাইকারদের আনাগোনা শুরু হয়, আর রমজানে ভিড় বাড়ে। শীতের পোশাকের মৌসুম মোটামুটি নভেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত।
কেরানীগঞ্জ থেকে কেনা পোশাক অন্য জেলায় কীভাবে পাঠাব?
প্যাকিং আর কুরিয়ার বা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে পৌঁছানোর দায়িত্ব কার, তা কেনার সময় শোরুমের সঙ্গে ঠিক করুন। বাজারে যেতে না চাইলে Roptan-কে চাহিদা পাঠান; Roptan কিনে, দেখে নিয়ে আপনার ঠিকানায় পাঠায়।