পাইকারি পণ্য
আই পি এস এর পাইকারি বাজার
ঢাকায় আইপিএসের পাইকারি বাজার হিসেবে পুরান ঢাকার নবাবপুর পরিচিত, যেখানে অন্য বৈদ্যুতিক পণ্যের পাশাপাশি আইপিএস ও জেনারেটর মেলে। গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট আর বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও আইপিএস পাওয়া যায়। লোডশেডিং বাড়লে আইপিএসের চাহিদা বাড়ে আর বাজারে মজুত কমে যায়, তাই দর নেওয়ার সময় কবে মাল দিতে পারবে, সেটাও জেনে নিন।
- আইপিএস ও জেনারেটরের পাইকারি
- নবাবপুর, পুরান ঢাকা
- আরও যেখানে মেলে
- স্টেডিয়াম মার্কেট (গুলিস্তান), বায়তুল মোকাররম মার্কেট
- সাপ্তাহিক বন্ধ
- নবাবপুর শুক্রবার, স্টেডিয়াম ও বায়তুল মোকাররম বৃহস্পতিবার; পরদিন বেলা ২টা পর্যন্তও বন্ধ
- খোলার সময় (১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে)
- সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা
আইপিএস পাইকারি কোথায় পাবেন
ঢাকায় আইপিএস কেনার পরিচিত জায়গাগুলো নিচে দেওয়া হলো। যেখানেই যান, কত পিস লাগবে বলে দর নিন, কারণ এক পিসের দর আর পাইকারি দর এক নয়।
- নবাবপুর, পুরান ঢাকা: বৈদ্যুতিক পণ্যের পাইকারি এলাকা। ২০২২ ও ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে অন্য বৈদ্যুতিক পণ্যের পাশাপাশি আইপিএস ও জেনারেটর বিক্রি হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদনে এসেছে, ঢাকার বাইরের দোকানিরাও সাধারণত এখানকার পাইকারি দোকান থেকে আইপিএস নেন।
- কাপ্তান বাজার: ২০২৬ সালের জানুয়ারির একটি প্রতিবেদনে নবাবপুরের সঙ্গে কাপ্তান বাজারকেও পাইকারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার জায়গা বলা হয়েছে। এখানে আইপিএস মেলে কি না, আগে ফোনে জেনে নিন।
- স্টেডিয়াম মার্কেট (গুলিস্তান) ও বায়তুল মোকাররম মার্কেট: ২০২২ সালের আগস্টের একটি প্রতিবেদনে আইপিএসের বাজার হিসেবে এই দুই মার্কেটের নাম আছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের খবরে গুলিস্তান ও স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সোলার ও ব্যাটারিচালিত পণ্যের দোকানে ক্রেতা বাড়ার কথা এসেছে।
আইপিএস কী, আর কেনার আগে কোন মাপগুলো বুঝবেন
আইপিএস বলতে সাধারণত একটি ইনভার্টার আর ব্যাটারির সেট বোঝায়। বিদ্যুৎ থাকলে ব্যাটারি চার্জ হয়, লোডশেডিংয়ের সময় ইনভার্টার সেই ব্যাটারি থেকে ঘরের বাতি-পাখা চালায়। পাইকারি দর নেওয়ার আগে দুটি মাপ বুঝে নিন:
- ওয়াট: যন্ত্র কতটা বিদ্যুৎ টানে তার মাপ। আইপিএসের ওয়াট বলে দেয় সেটি একসঙ্গে কত লোড চালাতে পারবে। যে বাতি, পাখা বা টিভি চালাতে চান, তাদের গায়ে লেখা ওয়াট যোগ করলে মোট লোড পাওয়া যায়।
- অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (Ah): ব্যাটারির ধারণক্ষমতার মাপ। একই লোডে যে ব্যাটারির Ah বেশি, সেটি বেশিক্ষণ চলে।
- ব্যাটারিকে সাধারণত আইপিএসের মূল অংশ ধরা হয়, তাই ইনভার্টারের মতো ব্যাটারির মাপ ও মানও আলাদা করে দেখুন।
- আপনার ক্রেতারা কোন লোড আর কতক্ষণ ব্যাকআপ চান, সেটা জেনে নিয়ে বিক্রেতাকে বলুন; ঠিক কোন ওয়াট ও কত Ah লাগবে, বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
তৈরি সেট না অর্ডারে বানানো: সরবরাহ কীভাবে আসে
নবাবপুরের এক পাইকারি ব্যবসায়ী ২০২৩ সালে বলেছিলেন, ক্রয়াদেশ পেলে তাঁরা কোম্পানি বা আমদানিকারকের কাছ থেকে আইপিএস সংগ্রহ করে ক্রেতাকে দেন। অর্থাৎ পাইকারি দোকানে সব মাল সাধারণত তাকে সাজানো থাকে না, অনেক সময় অর্ডার দিয়ে আনাতে হয়।
২০২৬ সালের মার্চের একটি গাইডে বলা আছে, স্থানীয় প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে চাহিদামতো আইপিএস বানিয়েও নেওয়া যায়। ২০২২ সালের আগস্টের একটি প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, দেশে ব্যাটারি তৈরি হয়, তবে কাঁচামাল আমদানি করে বানাতে সময় লাগে। তাই অর্ডারের মাল কবে হাতে পাবেন, শুরুতেই লিখিতভাবে জেনে নিন।
কোন বাজার কবে বন্ধ, কখন খোলা
সাপ্তাহিক বন্ধ: ঢাকায় দোকানের বন্ধের দিন এলাকা ধরে ঠিক করা, সপ্তাহে এক দিন পুরো দিন আর আরেক দিন বেলা ২টা পর্যন্ত। ২০২৪ সালের জানুয়ারির তালিকায় পুরো দিন আর অর্ধদিবস দুটোই আছে, আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের দৈনিক তালিকায় পুরো দিনের ভাগটি আবার এসেছে:
খোলার সময়: বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে ১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে দেশের দোকান, মার্কেট ও শপিংমল সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়, খাবারের দোকানসহ কিছু জরুরি সেবা বাদে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও নিয়মটি চালু ছিল, তবে এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে সময় কয়েকবার বদলেছে, আবারও বদলাতে পারে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
- শুক্রবার পুরো দিন, শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ: নবাবপুর, নবাবপুর রোড ও কাপ্তান বাজার
- বৃহস্পতিবার পুরো দিন, শুক্রবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ: স্টেডিয়াম মার্কেট ১ ও ২, বায়তুল মোকাররম মার্কেট
আইপিএসের পাইকারি দাম, মজুত ও ন্যূনতম অর্ডার
আইপিএসের দাম ও মজুত লোডশেডিংয়ের সঙ্গে ওঠানামা করে, তাই এখানে কোনো দাম দেওয়া হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে ঢাকার ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে একটিও আইপিএস পাওয়া যায়নি বলে খবর এসেছিল। ২০২৩ সালের জুনের খবরে ছিল, পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই চাইলেই আইপিএস মিলছিল না, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগে ক্রয়াদেশ দিতে হচ্ছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সোলার ও ব্যাটারিচালিত পণ্যের চাহিদা আবার বেড়েছে বলে খবর এসেছে।
সংকটের সময় দাম বাড়ার অভিযোগও সাধারণত ওঠে: ২০২২ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে নবাবপুরে কিছু ব্যবসায়ীর দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এসেছিল। আবার লোডশেডিং কমলে চাহিদা হঠাৎ কমে যেতে পারে বলে ২০২৩ সালে নির্মাতারা সতর্ক ছিলেন। তাই বড় মজুত নেওয়ার আগে মৌসুম বুঝে নিন। দর সাধারণত নির্ভর করে:
- ইনভার্টারের ওয়াট আর ব্যাটারির Ah।
- তৈরি সেট না অর্ডারে বানানো, দেশি না আমদানি করা।
- পরিমাণ: কত সেট একসঙ্গে নিচ্ছেন।
- লিখিত ওয়ারেন্টি আর ব্যাটারিতে বিএসটিআই মানচিহ্ন আছে কি না।
- ন্যূনতম অর্ডার (MOQ, মানে একবারে কমপক্ষে কত পিস নিতে হবে): দোকানভেদে আলাদা, তাই শুরুতেই জেনে নিন।
- ঢাকার বাইরে পাঠানোর কুরিয়ার বা ট্রান্সপোর্ট খরচ।
দাম দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন
খবর অনুযায়ী ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের এক বিএসটিআই সার্কুলারে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ও ইউপিএসে বিএসটিআই মানচিহ্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইপিএস কেনার সময় তাই ব্যাটারির গায়ে বিএসটিআই মানচিহ্ন আছে কি না দেখুন, আর বিএসটিআইয়ের সর্বশেষ তালিকা মিলিয়ে নিন। আরও দেখুন:
- ইনভার্টার ও ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কত দিনের, কী কী ঢাকে, তা লিখিত নিন। ব্যাটারি সাধারণত কয়েক বছর পর বদলাতে হয়, তাই ব্যাটারির ওয়ারেন্টি আলাদা করে জেনে নিন।
- সার্ভিস সেন্টার কোথায়, কেনার সময়ই জেনে নিন; আপনার জেলায় সার্ভিস না থাকলে ক্রেতাকে সেবা দেওয়া কঠিন হবে।
- কয়েকটি সেট বেছে নিয়ে চালিয়ে দেখুন; অস্বাভাবিক শব্দ, গন্ধ বা বেশি গরম হলে সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতাকে জানান।
- রসিদে পণ্যের নাম, মডেল, ওয়াট, Ah ও পরিমাণ লিখিয়ে নিন।
- ব্যাটারি ভারী, তাই শক্ত প্যাকিং চান; কুরিয়ার বা ট্রান্সপোর্ট ব্যাটারি নেয় কি না আগে জেনে নিন, আর পাঠানোর রসিদ রাখুন।
বাজারে না গিয়ে আইপিএস পাইকারি কিনুন Roptan-এর মাধ্যমে
সংকটের মৌসুমে দোকানে দোকানে ঘুরে মজুত খোঁজা আর মাল মিলিয়ে দেখা সময়ের কাজ। তার বদলে Roptan-কে জানান কী লাগবে: Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনে, পাঠানোর আগে পণ্য দেখে নেয়, তারপর দেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়। আপনাকে বাজারে যেতে, দর কষাকষি করতে বা একা মাল যাচাই করতে হয় না; লেনদেন শুধু Roptan-এর সঙ্গে।
চাহিদায় লিখুন কত ওয়াটের আইপিএস, ব্যাটারি কত Ah, বিএসটিআই মানচিহ্ন লাগবে কি না, কত সেট, কোন জেলায় পৌঁছাবে আর কবে লাগবে। পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়। সাইটে দাম দেওয়া থাকে না; দাম, ন্যূনতম অর্ডার আর ডেলিভারির তারিখ আসে কোটেশনে, মানে লিখিত দরপ্রস্তাবে।
নিজে সরবরাহকারীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাইটের Requirement board-এ চাহিদা দিন; সদস্য সরবরাহকারীরা দর পাঠাবেন, আর আপনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে লেনদেন করবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
আই পি এস এর পাইকারি বাজার কোথায়?
ঢাকায় আইপিএস ও জেনারেটরের পাইকারি এলাকা হিসেবে পুরান ঢাকার নবাবপুর পরিচিত। গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট আর বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও আইপিএস মেলে; পাইকারি দর পেতে পরিমাণ বলে দর নিন।
নবাবপুর আর স্টেডিয়াম মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
এলাকাভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী নবাবপুর শুক্রবার পুরো দিন ও শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত, আর স্টেডিয়াম মার্কেট ও বায়তুল মোকাররম মার্কেট বৃহস্পতিবার পুরো দিন ও শুক্রবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
আইপিএসের দোকান কখন খোলা থাকে?
১২ আগস্ট ২০২৬ থেকে সরকারি নির্দেশে দোকান ও মার্কেট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যায়। ২০২৬ সালে এই সময় কয়েকবার বদলেছে, তাই যাওয়ার আগে জেনে নিন।
পাইকারি দোকানে গেলেই কি আইপিএস পাওয়া যায়?
সব সময় নয়। লোডশেডিং বাড়লে মজুত কমে যায়; ২০২৩ সালের জুনের খবরে ছিল, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগে ক্রয়াদেশ দিতে হচ্ছিল। তাই দরের সঙ্গে মাল দেওয়ার তারিখও জেনে নিন।
আইপিএস কেনার আগে ওয়াট আর Ah কী দেখব?
ওয়াট বলে আইপিএস একসঙ্গে কত লোড চালাতে পারবে, আর Ah বলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, অর্থাৎ কতক্ষণ চলবে। যে যন্ত্রগুলো চালাতে চান তাদের ওয়াট যোগ করে বিক্রেতার সঙ্গে মাপ মিলিয়ে নিন।
আইপিএসের ব্যাটারিতে কি বিএসটিআই মানচিহ্ন লাগে?
খবর অনুযায়ী ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের বিএসটিআই সার্কুলারে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ও ইউপিএসে মানচিহ্ন বাধ্যতামূলক হয়েছে। তাই ব্যাটারির গায়ে চিহ্নটি দেখে নিন, আর বিএসটিআইয়ের সর্বশেষ তালিকা মিলিয়ে নিন।
ঢাকার বাইরে থেকে আইপিএস পাইকারি কীভাবে কিনব?
Roptan-কে ওয়াট, ব্যাটারির মাপ, কত সেট, জেলা আর কবে লাগবে জানান। Roptan যাচাই করা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে, দেখে, দেশের ভেতরে আপনার ঠিকানায় পাঠায়; পুরো তথ্য পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম উত্তর দেওয়া হয়।